আওয়ামীলীগের ১৫১ জন প্রার্থী চূড়ান্ত শিরোনামে সংবাদের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

0
136

ঢাকা থেকে রাকিব,দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ

আওয়ামীলীগের ১৫১ জন প্রার্থী চূড়ান্ত শিরোনামে সংবাদের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আওয়ামীলীগের ১৫১ জন প্রার্থী চূড়ান্ত শিরোনামে সংবাদটি ইতিমধ্য‌ে কিছু সংবাদ মাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি এক বছরের বেশি সময়। রাজনৈতিক দলগুলোর শিবিরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে আলোচনা এখনও আতুড় ঘরেই।

এখনও চূড়ান্ত হয়নি কিছুই। অথচ দু-একটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ১৫১ আসনে প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। এসব প্রার্থীরা নাকি এলাকাতে নিজের মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়টিও প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। এ ধরনের খবরে বিব্রতবোধ করেছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

তারা বলছেন, নির্বাচনের এত আগে মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া কারা মনোনয়ন পাবেন আর কারা পাবেন না-তা একমাত্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই জানেন। সবই তাঁর সিদ্ধান্তে হবে। এনিয়ে অহেতুক গুজব ছড়ানোর মানে হয় না। যারা একাজ করছেন তারা হয়তো মনে করছেন, এসব লিখলে বা বললে মনোনয়নে এর প্রভাব পড়বে। আসলে সবই অসাড়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রথমে আমরা ১৬০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করব। দুই ধাপে এটি হবে। প্রথম ধাপে ১০০, পরের ধাপে ৬০ প্রার্থী। এর পর যেসব দলের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী জোট রয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি আসনগুলোয় প্রার্থী ঠিক করা হবে। ১৫১ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু আমি জানি না। শুনিনি।’

গুটি কয়েক গণমাধ্যমের সংবাদে যে ১৫১ জনের নাম প্রচার করা হচ্ছে তার মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে আছে জনবিচ্ছিন্নতাসহ দুর্নীতি, অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ। যারা মনোনয়ন পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ভয় আছে, এমন ব্যক্তিকেও রাখা হয়েছে চূড়ান্তের তালিকায়। অথচ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা আগেই বলেছেন, জনবিচ্ছিন্নরা এবার আর মনোনয়ন পাচ্ছে না।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচন হলেও খবরে প্রকাশ ১৫১ জনের মধ্যে কমপক্ষে অর্ধেক এবার কোন ভাবেই নির্বাচিত হতে পারবেন না। প্রকাশিত মনোনয়ন চূড়ান্ত তালিকার মাঝে রয়েছেন মাদক সম্রাট হিসেবে কুখ্যাতি পাওয়া বিতর্কিত এমপি আবদুর রহমান বদি। যাকে ইতিপূর্বে মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা জানান, আপনাকে আমি নিশ্চিত করছি যাদের নাম প্রকাশ হয়েছে তাদের অনেকেই মনোনয়ন পাবেন না। এমন কি ঢাকায় যাদের নাম এসেছে তাদের বেশীর ভাগই মনোনয়ন পাবে না। কিসের ভিত্তিতে এমন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

উক্ত বিষয়ে আওয়ামীলীগের অন্য এক নেতা জানান, যাদের তালিকা দেওয়া হয়েছে তাদের বেশীর ভাগই মনোনয়ন পাচ্ছেন না নিশ্চিত। নিজেদের মনোনয় নিশ্চিত বলে তারা আসলে এক ধরনের ইমেজ তৈরীর অপচেষ্টায় লিপ্ত।

তিনি আরো বলেন, বাস্তবতা হলো কাকে মনোনয় দেওয়া হবে তা দলীয় সভানেত্রীর উপর নির্র্ভর করছে। আমার জানা মতে, যারা মনোনয়ন পাবেন না, তাদের এই মূহূর্তে জানান হচ্ছে। এখনও যাদের মনোনয়ন নিশ্চিত তাদের জানানো শুরু হয়নি।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে আসনভিত্তিক একাধিক জরিপ করা হয়। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা, দলীয় বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে জরিপগুলো চালানো হয়েছে। সব জরিপের ফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বর্তমানে। যেসব আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হতে পারে এখন ওই আসনগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

 

  • জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসনের ক্রমানুসারে বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত আওয়ামী লীগের ১৫১ জন সম্ভাব্য প্রার্থী হলেনঃ
  • নুরুল ইসলাম সুজন, পঞ্জগড়-২; রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-১; মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর-১; খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-২; ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-৩; মোস্তাফিজুর রহমান, দিনাজপুর-৫; আসাদুজ্জামান নূর, নীলফামারী-২; মোতাহার হোসেন, লালমনিরহাট-১; নুরুজ্জামান আহমেদ, লালমনিরহাট-২; টিপু মুনশি, রংপুর-৪; মাহবুব আরা বেগম গিনি, গাইবান্ধা-২; ইউনুস আলী সরকার, গাইবান্ধা-৩; আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জয়পুরহাট-২; আবদুল মান্নান, বগুড়া-১; হাবিবর রহমান, বগুড়া-৫; সাধন চন্দ্র মজুমদার, নওগাঁ-১; শহীদুজ্জামান সরকার, নওগাঁ-২; ইসরাফিল আলম, নওগাঁ-৬; ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-১; এনামুল হক, রাজশাহী-৪; আবদুুল ওয়াদুদ, রাজশাহী-৫; শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী-৬; শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-২; জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর-৩; মোহাম্মদ নাসিম, সিরাজগঞ্জ-১; হাবিবে মিল্লাত, সিরাজগঞ্জ-২; হাসিবুর রহমান স্বপন, সিরাজগঞ্জ-৬; মকবুল হোসেন, পাবনা-৩; গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, পাবনা-৫; ফরহাদ হোসেন, মেহেরপুর-১; মাহবুব-উল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া-৩; আবদুর রউফ, কুষ্টিয়া-৪; আলী আজগর, চুয়াডাঙা-২; তাহজীব আলম সিদ্দিকী, ঝিনাইদাহ-২; আনোয়ারুল আজীম আনার, ঝিনাইদহ-৪; শেখ আফিল উদ্দীন, যশোর-১; মনিরুল ইসলাম, যশোর-২; কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৩; স্বপন ভট্টাচার্য্য, যশোর-৫; বীরেন শিকদার, মাগুরা-২; কবিরুল হক, নড়াইল-১; শেখ হেলাল উদ্দীন, বাগেরহাট-১; তালুকদার আবদুুল খালেক, বাগেরহাট-৩; পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা-১; এস এম মোস্তফা রশিদী, খুলনা-৪; নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, খুলনা-৫; মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-২; আ ফ ম রুহুল হক, সাতক্ষীরা-৩; এস এম জগলুল হায়দার, সাতক্ষীরা-৪; ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বরগুনা-১; আ স ম ফিরোজ, পটুয়াখালী-২; আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, পটুয়াখালী-৩; তোফায়েল আহমেদ, ভোলা-১; নুরুন্নবী চৌধুরী, ভোলা-৩; আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ভোলা-৪; আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, বরিশাল-১; তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল-২; পংকজ দেবনাথ, বরিশাল-৪; আমির হোসেন আমু, ঝালকাঠি-২; আবদুুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-১; হাসান ইমাম খান, টাঙ্গাইল-৪; ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৫; অনুপম শাহজাহান জয়, টাঙ্গাইল-৮; আবুল কালাম আজাদ, জামালপুর-১; মির্জা আজম, জামালপুর-৩; আতিউর রহমান আতিক, শেরপুর-১; মতিয়া চৌধুরী, শেরপুর-২; জুয়েল আরেং, ময়মনসিংহ-১; ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, ময়মনসিংহ-১০; ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, নেত্রকোনা-৫; সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-১; রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৪; আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৫; নাজমুল হাসান, কিশোরগঞ্জ-৬; এ এম নাঈমুর রহমান, মানিকগঞ্জ-১; মমতাজ বেগম, মানিকগঞ্জ-২; জাহিদ মালেক, মানিকগঞ্জ-৩; মৃণাল কান্তি দাস, মুন্সীগঞ্জ-৩; কামরুল ইসলাম, ঢাকা-২; নসরুল হামিদ, ঢাকা-৩; সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা-৯; শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১০; এ কে এম রহমতউল্লাহ, ঢাকা-১১; আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা-১২; জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৩; আসলামুল হক আসলাম, ঢাকা-১৪; কামাল আহমেদ মজুমদার, ঢাকা-১৫; ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, ঢাকা-১৬; এনামুর রহমান, ঢাকা-১৯; আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-১; জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর-২; বর্তমান এমপি রহমত আলীর ছেলে জামিল হাসান দুর্জয়, গাজীপুর-৩; সিমিন হোসেন রিমি, গাজীপুর-৪; মেহের আফরোজ চুমকি, গাজীপুর-৫; নজরুল ইসলাম, নরসিংদী-১; কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-২; সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী-৩; নুরুল মজিদ হুমায়ুন, নরসিংদী-৪; গোলাম দস্তগীর গাজী, নরায়ণগঞ্জ-১; নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-২; শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪; কাজী কেরামত আলী, রাজবাড়ী-১; জিল্লুল হাকিম, রাজবাড়ী-২; আবদুর রহমান, ফরিদপুর-১; খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ফরিদপুর-৩; মুহাম্মদ ফারুক খান, গোপালগঞ্জ-১; শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গোপালগঞ্জ-২; শেখ হাসিনা, গোপালগঞ্জ-৩; নুর ই আলম চৌধুরী লিটন, মাদারীপুর-১; শাজাহান খান, মাদারীপুর-২; বিএম মোজাম্মেল হক, শরীয়তপুর-১; নাহিম রাজ্জাক, শরীয়তপুর-৩; এমএ মান্নান, সুনামগঞ্জ-৩; মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-৫; মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সিলেট-৩; ইমরান আহমেদ, সিলেট-৪; নুরুল ইসলাম নাহিদ, সিলেট-৬; শাহাব উদ্দিন, মৌলভীবাজার-১; আবদুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-২; আবু জহির, হবিগঞ্জ-৩; মাহবুব আলী, হবিগঞ্জ-৪; র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩; আনিসুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪; এ বি তাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬; সুবিদ আলী ভূইয়া, কুমিল্লা-১; সেলিমা আহমদ, কুমিল্লা-২; ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, কুমিল্লা-৩; রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, কুমিল্লা-৪; আবদুল মতিন খসরু, কুমিল্লা-৫; আ ক ম বাহাউদ্দীন, কুমিল্লা-৬; ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কুমিল্লা-৭; তাজুল ইসলাম, কুমিল্লা-৯; আ হ ম মুস্তফা কামাল, কুমিল্লা-১০; মুজিবুল হক, কুমিল্লা-১১; মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, চাঁদপুর-২; শামসুল হক ভূইয়া, চাঁদপুর-৪; মোরশেদ আলম, নোয়াখালী-২; মামুনুর রশীদ কিরণ, নোয়াখালী-৩; একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী-৪; ওবায়দুল কাদের, নোয়াখালী-৫; ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-১; মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম-৩; হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৭; আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১১; শামসুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২; সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩; নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৪; আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-২; সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-৩; আবদুর রহমান বদি, কক্সবাজার-৪; বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, পার্বত্য বান্দরবান।