আওয়ামী লীগ ১৬৮ থেকে ২২০ আসনে জয়লাভ করবে- সজীব ওয়াজেদ জয়।

0
22

রায়হান (ঢাকা) প্রত‌িনিধিঃ দৈনিক শিক্ষাবার্তা।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৮ থেকে ২২০ আসনে জয়লাভ করবে- সজীব ওয়াজেদ জয়।আওয়ামী লীগ ১৬৮ থেকে ২২০ আসনে জয়লাভ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (আরডিসি) জরিপ তথ্য তুলে ধরে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

নিজের ভেরিফাইড করা ফেসবুক পেজে জয় লিখেছেন, ‘এ বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত আমরা এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় জাতীয় জনমত জরিপটি করাই। নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (আরডিসি) মাধ্যমে জরিপটি করানো হয়। এ বছরের মেয়র নির্বাচনের জরিপটিও এ সংস্থাটিই করেছিল। আপনাদের হয়তো মনে আছে আমার পেজ থেকে সেই জরিপটিও শেয়ার করি যার ফলাফল নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে মোটামুটি ভালোই মিলেছিল।’

জরিপে ৫১টি নির্বাচনী আসনের ৫১ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ প্রতি আসনে অন্তত এক হাজার ভোটারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব নির্বাচনের ফলাফল আমলে নিয়ে এই ৫১টি আসন আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে বেছে নিয়েছিলাম। এই আসনগুলোতে আমরা সবচেয়ে বেশি ভিন্ন ভিন্ন দলে ভোট দেয়ার প্রবণতা দেখতে পাই বা সাধারণত জয়ের পার্থক্য সবচেয়ে কম থাকে। আর এই আসনগুলো নিয়েই আমাদের দল সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ছিল।’

মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরুর আগে করা জরিপে দলীয় প্রার্থীদের জনমতের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই জানিয়ে জয় বলেন, দলগতভাবে এই ৫১টি আসনেই আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে। ১২ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ে সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা জয়পুরহাট-১ আসনে আর ৭৫ শতাংশ নিয়ে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা বরিশাল-৪ আসনে। যারা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি তাদের সবচেয়ে কম সংখ্যা দেখা যাচ্ছে টাঙ্গাইল-৩ আসনে, ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এই আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নিকটবর্তী দলের ব্যবধান ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সিদ্ধান্তহীনদের সংখ্যা সাতক্ষীরা-৩ আসনে, সেখানেও আওয়ামী লীগের জয়লাভের ব্যবধান ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

সজীব ওয়াজেদ জয় আরও বলেন, গড়ে আওয়ামী লীগের জন্য সমর্থন ৬৬ শতাংশ মানুষের, বিএনপির জন্য ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ আর ৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্ত নেননি। যারা সিদ্ধান্ত নেননি তাদের থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থনের ব্যবধান অনেক বেশি। আরও গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হচ্ছে- কোনো আসনেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমর্থনের পার্থক্য ১০ শতাংশের মধ্যে নেই। শুধু দুটি আসনেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমর্থনের পার্থক্য ২০ শতাংশ। এর মধ্যে ২৮টিতে, অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি জরিপকৃত আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমর্থনের পার্থক্য ৫০ শতাংশের বেশি। সমর্থনের পার্থক্য ১০ শতাংশের বেশি হলেই দ্বিতীয় দলটির জন্য তা পার করা মোটামুটি অসম্ভব হয়ে যায়, আর ২০ শতাংশের বেশি পার্থক্য থাকলে একাধিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দ্বারাও তা টপকানো সম্ভব হয় না। জয় লিখেছেন, এই ফলাফলগুলো বয়স ও লিঙ্গের ওপর নির্ভর করে বের করা হয়েছে, তাই মোট ফলাফল সর্বক্ষেত্রে শতভাগ নয়।

আসন অনুযায়ী ‘মার্জিন অব এরর’ ৩ শতাংশ এবং আস্থা স্তর (কনফিডেন্স লেভেল) ৯৫ শতাংশ। সম্পূর্ণ ৫১ হাজার স্যাম্পলের ‘মার্জিন অব এরর’ ০ শতাংশ এবং আস্থা স্তর (কনফিডেন্স লেভেল) ৯৫ শতাংশ। এই জরিপগুলোর ওপর ভিত্তি করে এবং ১৯৯১-২০০৮ এর নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করার পর আমার বিশ্বাস যে, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে ১৬৮ থেকে ২২০টি আসনে জয়লাভ করবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের চেয়েও বেশি ব্যবধানে এবার আওয়ামী লীগ জয়লাভ করবে বলে আমার দৃঢ় ব‌িশ্বাস।

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here