নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮।আজ ১৪ ডিসেম্বর সারা দেশে পালিত হবে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ। তাই আজ ১৪ ডিসেম্বর সারা দেশে পালিত হবে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে রক্তে ভেজা একটি বেদনাবিধূর দিন।

পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে এই দিনে দেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। হায়েনারা রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে হামলা চালিয়ে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, মৌন মিছিল ইত্যাদি। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এদিন সকাল ৭টা ৫ মিনিটে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টা ৬ মিনিটে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রীর নেতৃত্বে শহীদ পরিবারের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকাল ৭টা ২২ মিনিটে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে সর্বস্তরের জনগণ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রতিবারের মতো এবারও দেশবাসীর সাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্য সহকারে এই শোকাবহ দিনটিকে স্মরণ ও পালন করবে।এ উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। এছাড়াও এদিন বিকাল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলতনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে দলটি। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে সংশ্লিষ্টদের অনেকের বিচারের রায় কার্যকর হলেও বুদ্ধিজীবী হত্যায় সরাসরি জড়িত চৌধুরী মইনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান পলাতক থাকায় বিচার এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।পরাজয়ের অন্তিম মুহূর্তে দখলদার বাহিনীর নির্মম নিষ্ঠুর এই হত্যাযজ্ঞ গোটা পৃথিবীর মানুষকে স্তম্ভিত করে তুলেছিলো। গোপন অজ্ঞাত স্থানে হত্যাকা- চালানোর পর অনেকের লাশ ফেলে রাখা হয়েছিলো মিরপুরসহ রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে। লাশের স্তূপে শহীদদের কারো চোখ ছিলো না, মাথা ছিলো না, কারো হাত- পা ছিলো না। বেয়নেটের খোঁচায় অনেকের পেটের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গিয়েছিলো। ১৪ ডিসেম্বর হায়েনারা বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজনদের সামনে টেনে-হিঁচড়ে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও অফিস আদালত থেকে বুদ্ধিজীবীদের তুলে নিয়ে যায়। অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী অধ্যাপক জিসি দেব, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতিময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, সন্তোষ ভট্টাচার্য, সাংবাদিক সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজুদ্দীন হোসেন, আনম গোলাম মোস্তফা, নাজমুল হক, লাতু ভাই, খন্দকার আবু তালেব, আবুল খায়ের রাশেদুল হাসান, ডাক্তার আলীম চৌধুরী, ডাক্তার রাববী, ডাক্তার আজাদ, আবুল বাশার, ড. জয়জুল হক মহি, চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান প্রমুখ ইতিহাসের নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড‌ের শিকার হন।

১৪ ডিসেম্বরের এই করুণ স্মৃতি বাঙালি কোনোদিন ভুলতে পারবে না। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ দখলদার মুক্ত হলে স্বজনহারা হাজার হাজার শোকাত মানুষ রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে ছুটে যায়। বধ্যভূমিতে ময়লা নোংরা পানিতে পড়েছিলো বুদ্ধিজীবীদের লাশের স্তূপ। আজকের এই দিনটিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানান কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা জানাবে তাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here