এবার বোরো আবাদ হচ্ছে না অভয়নগরের হাজার হাজার বিঘা জমিতে

স্টাফ রিপোর্টার: দৈনিক শিক্ষাবার্তা।

0
273

যশোরের অভয়নগরে ঝিকরার বিলে হাজার হাজার বিঘা জমিতে থই থই করছে পানি। ওই সব জমিতে এবছর হচ্ছেনা বোরো আবাদ।

এবার বোরো আবাদ হচ্ছে না অভয়নগরের হাজার হাজার বিঘা জমিতে
যশোরের অভয়নগরে ঝিকরার বিলে হাজার হাজার বিঘা জমিতে থই থই করছে পানি।

আবার যে সমস্ত মৎস্য ঘেরে বোরো আবাদ হয়ে থাকে সেগুলিতে এবার ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুন। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিলের মধ্যের মৎস্য ঘেরের অধিকাংশ জমির মালিকদের সাথে চুক্তি থাকে, মাছ চাষ শেষে পৌষ মাসের মধ্যে ঘেরের পানি সেচ দিয়ে বোরো আবাদের পরিবেশ করে দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তা মোটেও সম্ভব হচ্ছেনা।

এদিকে আমডাঙ্গা খাল দিয়ে পানি প্রবাহ বাড়াতে ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসণ আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে খালের পলি অপসারণ ও খাল প্রসস্ত করণের কাজ চলছে।

উল্লেখ্য,  বিএডিসি’র অর্থায়নে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ করে আমডাঙ্গা খাল কাটা হয় এবং খালের উপর পুরাতন ব্রিজটি ভেঙ্গে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ব্রিজ করা হয়। সরকারের ওই অর্থ এখন কৃষকের কোন কাজেই আসছেনা বলে জানান এলাকার কৃষকেরা।

সরেজমিনে বিল ঝিকরায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠের মধ্যে থই থই করছে পানি। কোথাও কোথাও সাদা পানি আর পানি, আবার কোথাও কোথাও পানির মাঝে সরু মৎস্য ঘেরের পাড়। ঝিকরার বিলের মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী ধোপাদী গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানায়, ঘের পানিতে ভরে গেছে। পানি পার না হতে পারায় এবার ঘেরে ধানও হবে না আবার মাছ চাষ করাও সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি আরও জানান, এই সময় আমরা ঘের থেকে পানি সেচ দিয়ে ঘেরের মধ্যে বোরো ধান চাষ করতাম, কিন্তু এবার ধান করাতো সম্ভবই হচ্ছেনা। এতে কৃষকেরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বে। মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে  তারা জানান, এবার বিলে ধান হবেনা তাই মনে করেছিলাম ঘের পানিতে ভরে গেছে এবার মাছ চাষ করব কিন্তু তারও কোন উপায় নেই। কারণ ঘেরে যে পরিমাণ পানি রয়েছে তার মধ্যে মাছ ছাড়লে যদি নতুন করে পানির চাপ দেয় কিংবা বৃষ্টি হয়, তহালে আসল-ফসল দুটোই যাবে। ফলে পথে বসে যাওয়ার ভয়ে কোনটাই করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের এখন উভয় সংকট অবস্থা চলছে। এরকম অবস্থায় থাকলে কৃষকদের অনাহারে দিন কাটবে।

লক্ষীপুর গ্রামের কৃষক হোসেন আলী জানান, আমাদের প্রধান ফসল হচ্ছে বোরো চাষ, এই চাষ না করতে পারলে আমরা পথে বসে যাব। আমাদের সহায় সম্বল বিক্রি করে পথে উঠে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। তাছাড়া মাঠভরা পানি কৃষকদের প্রধান ফসল বোরো আবাদ নিয়ে যে দু:শ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে তা সরকারের সহযোগীতা ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকার কোন উপায় নেই।

এব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম সামদানির সাথে কথা বললে তিনি জানান, উপজেলার বিভিন্ন বিলে পানি জমে থাকায় এবার বোরো আবাদ নিয়ে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তবে আমডাঙ্গা খাল দিয়ে কিছু পানি ভৈরব নদে নিষ্কাশন হচ্ছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তিনি আরও জানান, বোরো আবাদ না হলেও কিছু আগে আমন চাষটা বেশ ভালো হয়েছে। কারণ আমনের সময় পানি কম থাকায় এবং ওই সময় খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হওয়ায় কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছে কৃষকেরা। তবে এ এলাকার প্রধান ফসল বোরো চাষ সঠিক ভাবে না করতে পারলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এ বিষয়গুলি নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথে কথা হয়েছে, এর একটা সমাধান কিভাবে করা যায় সে চেষ্টা আমাদের অব্যহত আছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খান জানান, সম্প্রতি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এসেছিলেন তখন আমডাঙ্গা খাল পরিদর্শন করে তিনি একটি প্রকল্পের কথা জানিয়ে ছিলেন। আমরা চেষ্টা করছি ওই প্রকল্পের আওতায় কোন সমাধান করা যায় কি-না। তাছাড়া বিল ঝিকরার রাজাপুর-গোবিন্দ এলাকার কৃষকেরা নিজেদের অর্থায়নে পানি সেচ করে বোরো আবাদ করে থাকে। কিন্তু এবছর পানির চাপ এত বেশি যে, পানি সেচ করতে যে পারিমাণ খরচ হবে তা বোরো আবাদ করে পুষিয়ে ওঠা যাবেনা বলে এবছর পানি সেচ করতে আগ্রহী হচ্ছেনা স্থানীয় কৃষকেরা। সরকারীভাবে কোন ব্যবস্থা করা যায় কি/না সে ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

এব্যাপারে ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসণ আন্দোলন কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক বাবুল জানান, কৃষকদের কথা চিন্তা করে নিজেদের অর্থায়নে আমডাঙ্গা খাল প্রশস্ত করণের কাজ শুরু করা হয়েছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ স্কেভেটর দিয়ে খালের গভীরতা বাড়ানোর কাজ চলছে। খালের গভীরতা বাড়লে ভৈরব নদে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে, সেই লক্ষে এই কাজ করা হচ্ছে। তাছাড়া সম্প্রতি মন্ত্রী মহোদয় পরিদর্শন করে একটি প্রকল্প এবং দ্রুত টিআরএম বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।

বি এইচ মাহিনী

আপনার মন্তব্য

আপনার মতামত দিন
আপনার নাম