নিজস্ব প্রতিবেদক। দৈনিক শিক্ষাবার্তা:

করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কায় সব দেশের জন্য ওমরাহ পালন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। এ সিদ্ধান্তের কারণে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে  হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসতে হচ্ছে ওমরাহে গমনেচ্ছুদের। সকাল থেকে কমপক্ষে ৫ টি ফ্লাইটের সহস্রাধিক যাত্রী সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে আসেন। তবে বিমানবন্দরে আসা ওমরাহ গমনেচ্ছুদের তথ্য জানাতে কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।

ওমরাহ পালন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সৌদি সরকার
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমরাহ হজ্জযাত্রীদের চরম দূর্ভোগ।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরবের  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওমরাহ পালন  নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওমরাহ পালনে সাময়িকভাবে স্থগিত হবার কারণে  বিমানবন্দরে গিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে গমনেচ্ছুদের। অনেকে সকাল থেকেই বিমানবন্দরের চেক ইন কাউন্টারে অপেক্ষা করেন।

এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, সৌদি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কারণে ওমরাহ যাত্রীদের ফ্লাইটে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সৌদি আরবে যারা কাজ করছেন তারা যেতে পারছেন।

ওমরাহ পালন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সৌদি সরকার
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে মহিলারা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।

এদিকে বিকেলেও ওমরাহে গমনেচ্ছুরা বিমানবন্দরে এসেছেন। কিন্তু, বিমানবন্দরের ভেতরে কাউন্টার থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৬ জন আত্মীয় নিয়ে বিমানবন্দরের এসেছেন মনিরুজ্জামান। দৈনিক শিক্ষাবার্তা কে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি ওমরাহ করতে যাওয়া যাবে না। তারপরও এসেছি। ভেতরে গিয়ে খোঁজ নেবো।

হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন ‘হাব’ এর সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম দৈনিক শিক্ষাবার্তা কে বলেন, ‘আজকে (বৃহস্পতিবার) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথিবীর সব দেশের ওমরাহ ভিসা ইস্যু ও ভিজিটর ভিসা স্থগিত করেছে। তারপর থেকে ওমরাহ যাত্রী পাঠানো যাচ্ছে না। সকালে সৌদি দূতবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। যাদের ভিসা আছে তারা যেতে পারবেন কিনা সে বিষয়টিও অস্পষ্ট। এখন পর্যন্ত দশ হাজার ওমরাহ যাত্রীর সবার ভিসা হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচ হাজার যাত্রীর বিমানের টিকিট কাটা হয়ে গেছে। ওমরাহ পালন করার জন‌্য সৌদিতে থাকার হোটেলসহ অর্থ খরচ করে সব প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কাজও শেষ করা হয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা আর সেদেশে ঢুকতে পারছেন না।

ভিসার জন্য সৌদি সরকারকে (আইবিএনের মাধ্যমে) পরিশোধ করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। সাধারণ ক্যারিয়ারে যে তিন হাজার টিকিট কাটা আছে সেগুলোর জন্যও আর্থিক ক্ষতি হবে। আর সেখানে যে হোটেল ভাড়া করা আছে, এজন্য মূল্য আগেই পরিশোধ করতে হয়। সব মিলিয়ে ৫০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। ওমরাহ যাত্রীরা শেষ পর্যন্ত যেতে না পারলে এই টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। এতে ওমরাহ যাত্রীদের ক্ষতি তো হবেই, আমাদেরকেও  বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

যাত্রীদের বিমান টিকিট প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, যাত্রীরা চাইলে টিকিটের টাকা রিফান্ড নিতে পারবেন। আবার কেউ চাইলে পরেও ওমরাহ করতে যেতে পারবেন।