নিজস্ব প্রতিবেদক। দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। করোনায় বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু এটাই।

করোনায় বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত আরও ৪
করোনাভাইরাস

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, করোনায় বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু হওয়া ব্যক্তি পুরুষ। তার বয়স ৭০ বছর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রফেরত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আগে থেকে তিনি ভুগছিলেন শারীরিক নানা জটিলতায়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনিজনিত সমস্যা ছিল। পাশাপাশি তার হার্টে স্টেন্ট পরানো ছিল। তিনি উচ্চ ঝুঁকিতে ছিলেন। বার্ধক্যের কারণেও শারীরিক নানা জটিলতায় ছিলেন। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। বুধবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আইইডিসিআর পরিচালক জানান, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪। আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১৬ জনকে। চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নতুন আক্রান্ত ৪ জনের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ। একজন আগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছিলেন। আর বাকি তিনজন বিদেশ থেকে এসেছেন। তাদের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে এবং একজন কুয়েত থেকে এসেছেন। ৪২ জন আছেন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে। সবমিলিয়ে আইইডিসিআর ৩৪১টি নমুনা নিয়েছে। আর হটলাইনে মোট কল এসেছে ৪ হাজার ৮৫৭টি।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, করোনাভাইরাসের ফলে হওয়া কোভিড-১৯ রোগটি মারাত্মক নয়। কিন্তু ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এখানে মৃত্যুঝুঁকি থাকে না। এ ক্ষেত্রে সচেতন হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমরা বারবার বয়স্কদের বিশেষ নিরাপত্তার জন্য বলছি। তাই এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে ঘরে থাকতে হবে। একইসঙ্গে বিরত থাকতে হবে হাত মেলানো-কোলাকুলি, জন সমাগমে যাওয়া থেকেও। করোনা প্রতিরোধে সাবধানতার পাশাপাশি জনসমাবেশ বন্ধের আহ্বানও জানান আইইডিসিআরের এ পরিচালক।

যিনি প্রবাস থেকে এসেছেন তাকে ও তার পরিবার এবং পাড়া-প্রতিবেশীকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়ে সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান ডা. ফ্লোরা। তিনি বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া করোনার সংক্রমণ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, সামান্য হাঁচি, কাশি ও জ্বর হলে হাসপাতালে আসার প্রয়োজন নেই। তবে করোনার লক্ষণ ও উপসর্গ তীব্র হলে হাসপাতালে আসতে হবে। চিকিৎসকরা লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি রোগতাত্ত্বিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে প্রবাস ফেরত হলে কারও সংস্পর্শে এসেছেন কি-না, তা জেনে সঠিক পরামর্শ দেবেন। প্রয়োজন হলে নমুনা পরীক্ষা করবেন।

আইইডিসিআর তথ্য গোপন করছে বলে অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা কোনো তথ্য গোপন করি না, গোপন করার প্রয়োজনও নেই। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের প্রচেষ্টা চলছে।

জ্বর, হাঁচি, কাশি নিয়ে যারা হাসপাতালে যাচ্ছেন, তাদেরকে কোনো ধরনের তথ্য গোপন না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্ত গোপন করলে তা সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন থেকে প্রবাসফেরত যাত্রীদের নাম ও ঠিকানা পাসপোর্টে দেয়া তথ্য থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেকেই পাসপোর্টের ঠিকানায় যাচ্ছেন না।