ঢাকা জেলা প্রতিনিধিঃ এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে বন্দীর বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এটা তো সমগ্র নারী জাতির জন্য একটা কলঙ্ক। একজন নারী মানে একজন মা। একজন মা হয়ে এতিমের টাকা কিভাবে চুরি করলো বা সেটার অপব্যবহার করলো। এটা তো আমাদের নারীর জাতির জন্য লজ্জাকর’।

বুধবার (১১ জুলাই) জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নূরজাহান বেগমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। দুপুর তিনটার পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করার কথা তো কখনও চিন্তাও করা যায় না। সামান্য কয়টা টাকা এতিমরা পাবে। এই টাকা নিয়ে ১০ বছর মামলা চলল। এখন তিনি কারাগারে বন্দি। কোর্টের রায়ে এটা হয়েছে। ১০ বছর মামলা চালালেন বিএনপির জাদরেল আইনজীবী ও ব্যারিস্টার সাহেবরা। কেউ প্রমাণ করতে পারেননি তিনি নির্দোষ।’

‘উল্টো মামলার রায় বের হওয়ার আগে তারা দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দুর্নীতিবাজকে দলের নেতৃত্বে আসার সুযোগ করে দিলো। এর অর্থ তারা জানে খালেদা জিয়া অপরাধী এজন্য রায়ের আগেই এটা সংশোধন করেছে।’ ‘এটা তো সব নারী জাতির জন্যই একটা কলঙ্ক। আমাদের নারী জাতির জন্য লজ্জার। কারণ, একজন নারী মানে একজন মা। একজন মা হয়ে এতিমের টাকা কী করে চুরি করে বা অপব্যবহার করে।’ খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পেছনে সরকারের হাত নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো রাজনৈতিকভাবে তাকে অ্যারেস্ট করিনি। এটা করলেও তো ২০১৪ সালে করতে পারতাম, ২০১৫ সালে করতে পারতাম। সেটা তো করিনি।’

বর্তমান সরকারের আমলে নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময়ে ছয় হাজারের ওপর নির্বাচন হয়েছে কেউ তো কোনও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেনি। কিন্তু বিএনপির আমলের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথা আমাদের মনে আছে। ২০০৬ সালে তারা যখন নির্বাচন করার প্রচেষ্টা করেছিল, তখনও ভোটারবিহীন নির্বাচন করে কতজনকে নির্বাচিত ঘোষণাও দিয়েছিল।’

তরিকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ১৮ মে থেকে ১৫ হাজার ৩৩৩টি মামলা হয়েছে। ২০ হাজার ৭৬৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দ করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একহাজার ২৮৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।শেখ হাসিনা বলেন, দেশে যখন একটা সুন্দর সুষ্ঠু পরিবেশ থাকে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকে তখন খুব স্বাভাবিকভাবে সর্বস্তরের মানুষই তাদের কর্মক্ষেত্রে স্ব স্ব জায়গায় পারদর্শিতা দেখাতে পারে এবং কাজ করতে পারে। তার ফলে দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হয়।

টানা মেয়াদে সরকারের ধারাবাহিকতার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচনের জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠন করি। সরকারের আসার পর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত যে কাজগুলো করেছিলাম। এরপর ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি বলেই বাংলাদেশ এতো উন্নতি করেছে এবং আমাদের নারীরা সমাজের সর্বক্ষেত্রে সুযোগ পেয়েছে। তাদের দক্ষতার পরিচয় দিতে পেরেছে।’ ‘এই ধারাবাহিকতা বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় না থাকত তাহলে নারীরা নির্যাতনের শিকার হতো’ দাবি করে তার কারণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে আমরা দেখেছি, কিভাবে আমাদের দেশের মেয়েরা নির্যাতনের শিকার হয়েছিল? ঠিক ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে আমাদের মেয়েদের উপর পাশবিক নির্যাতন-অত্যাচার করেছিল, ঠিক একই কায়দায় ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় মেয়েদের উপর পাশবিক অত্যাচার হয়েছিল।

২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে সারাদেশে নারীদের উপর সংঘটিত ঘটনাগুলোর উদাহরণ দিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘আমি মনে করি নারীর ক্ষমতায়ন তখনই সম্ভব যখন দেশে একটা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করা, এটা তো কখনো চিন্তা করা যায় না। সামান্য কয়টা টাকা এতিমরা পাবে? সেই টাকা নিয়ে দশ বছর মামলা চালিয়ে দুর্নীতির দায়ে এবং এতিমের টাকা আত্মসাৎতের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে বন্দী আছে। সেটাও তো কোর্টের রায়। আমরা তো রাজনৈতিকভাবে অ্যারেস্ট করিনি। তাহলে তো ২০১৫ সালে করতে পারতাম। ২০১৪ সালে করতে পারতাম, তা তো করিনি।’

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here