খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের হৃদ স্পন্দন আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ ও তাঁর সফল রাজনৈতিক জীবননিজস্ব প্রতিনিধি,দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ

লিখেছেন তপু সরকার; খুলনাঃ 

আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ খুুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন এর ডেউয়াতলা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৪৮ সালের ২রা জানুয়ারী তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত শেখ মুজিবুর রহমান মাতা মৃত ফাতেমা খাতুন। ভাই বোনদের ভিতরে তিনি বড়। তিনি তার প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন ডেউয়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে খুলনা মডেল স্কুল থেকে তিনি মেট্রিক পাশ করেন। পরে ভর্তি ব্রজলাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।১৯৬২ সালে তিনি বিএল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুরু করেন তার রাজনৈতিক জীবন।

৬২’র শিক্ষা কমিশন বাতিল আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৪ সালে শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৬৫ সালে তিনি খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সনে জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হলে শেখ হারুনুর রশীদ খুলনা জেলায় দক্ষিণের সুন্দরবন পর্যন্ত দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন।১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে তার বিশেষ ভুমিকা ছিলো খুলনার রাজনীতিতে। দেশমাতৃকাকে হনাদার পাকিস্তানের দোসর এর হাত থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে শেখ হারুনুর রশীদ ভারতে গিয়ে পলিটিক্যাল মোটিভেটেড হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন তারপর ভারতের বসিরহাট রিক্রুটিং অফিসে রিক্রুট হয়ে প্রথমে হাকিমপুর তকিপুর, বেগুনদিয়া শিবিরের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেয়ার পরে তিনি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। মেজর অবসরপ্রাপ্ত জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে তিনি সাতক্ষীরা জেলার বিনেরপোতা যুদ্ধে যোগদান করেন। তারপরে দেশের অভ্যন্তরে আশাশুনি, পাইকগাছা,বটিয়াঘাটা সহ অনেক খণ্ডযুদ্ধে তিনি সশস্ত্র অংশগ্রহণ করেন নিজের উপজেলায় ফেরার পর যুদ্ধকালীন কমান্ডার ক্যাপ্টেন অবসরপ্রাপ্ত শেখ আফজাল হোসেন তার সান্নিধ্যে আসেন এবং স্থানীয়ভাবে রাজাকারদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে লুটপাটের বহু জিনিসপত্র তিনি উদ্ধার করেন। তিনি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত জাহাজ ও কার্গো এনে এলাকার ক্ষুধার্ত অভাবগ্রস্ত জনগণের মাঝে বিতরণ করে সাধারণ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখেন।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে খুলনায় আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন ৫ সদস্য বিশিষ্ট যে কমিটি হয় তিনি তার অন্যতম সদস্য ছিলেন। তিনি খুলনা জেলা কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন, বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন, তিনি বাংলাদেশ কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। জনাব শেখ হারুনুর রশিদ বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ ৮ বছর।১৯৭৬ সালে তিনি খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।১৯৭৮ সালে তিনি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।১৯৮২ সালে তিনি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সেই সাথে সাথে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।১৯৮৬ সাথে খুলনার ৬ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে খুলনা ১ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে ঐ সময় শুধুমাত্র তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। বাকি পাঁচটি আসনে পরাজিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে খুলনা ১ আসন থেকে দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধীদলীয় হুইপ নির্বাচিত হন।১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে তিনি বন ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

১৯৯১ সালে তিনি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।১৯৯৬ থেকে অদ্যাবধি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে চলেছেন সুনামের সাথে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন।২০১১-২০১৬ সাল পর্যন্ত। তিনি খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন।২০১৭ সাথে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নীতি আদর্শের বাইরে অন্য কারো সাথে কখনো আপোষ করেনি।১/১১ সময় প্রিয় নেত্রী যখন কারারুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন তখন আওয়ামী লীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে খুলনা বিভাগের নেতা হিসেবে বক্তব্য রাখা কালীন সময়ে তিনি বলেছিলেন- “No Hasina No Dialog,No Hasina No Election”।

আসন্ন ১০ই ডিসেম্বর খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশিদ সকলের দোয়া পার্থী।

সংবাদ প্রকাশে সার্বিক সহযোগিতায়: আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ স্যারের স্নেহের ভাগ্নে-

এস,কে সম্রাট, অভয়নগর, যশোর। 

ফোন নাম্বার: 01718554492