খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন যারাখুলনা জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ

 

১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন ‘নেতাদের ছবি, বিলবোর্ড প্রদর্শন করে নেতা হওয়া যায়না। নেতা হতে গেলে নেতৃত্বের প্রমাণ দিতে হবে, কর্মীদের ভালবাসতে হবে। কারণ কর্মীরা বাঁচলেই আওয়ামী লীগ বাঁচবে।’ আগামী কমিটিতে দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের পর কর্মীদের ভালবাসার কারণেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কারামুক্ত হয়েছিলেন। আর যারা বসন্তের কোকিল তারা বসন্ত চলে গেলে পালিয়ে যাবে। সুতরাং পকেট কমিটি বানাবেন না। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ভাল নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি করতে হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। বিএনপি পথ হারানো পথিকের মতো দিশেহারা। ইতোমধ্যে দুই উইকেট পড়েছে, আরও পড়বে।

আন্দোলনের ডাক দেয় শুনি, দেখতে দেখতে এগারো বছর। আন্দোলন হবে কোন বছর?’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী, টেন্ডারবাজ, ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীরা সাবধান। তাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার ডাইরেক্ট অ্যাকশন শুরু হয়েছে। কেউ বাদ যাবেন না। সবাই সতর্ক ও শুদ্ধ হয়ে যান। ঢাকার বাইরেও অ্যাকশন শুরু হবে। কে ধরা পড়বেন বলা মুশকিল। আওয়ামী লীগে দূষিত রক্তের প্রয়োজন নেই বরং বিশুদ্ধ রক্তের সঞ্চালন করতে হবে।’ এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে স্বাগত বক্তৃতা করেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ও বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। সম্মেলনের প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, মির্জা আজম এমপি, শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপি, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, হাবিবুর রহমান সিরাজ, এস এম কামাল হোসেন, এ্যাড. আমিরুল আলম মিলন, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি, আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি, আকতারুজ্জামান বাবু এমপি, এ্যাড. ঝর্না সরকার এমপি। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান এবং জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারী। পরে একই স্থানে দ্বিতীয় অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হয়।

খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন যারা:

খুলনা মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি,
আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক।সাধারণ সম্পাদক, এম. ডি. এ. বাবুল রানা।
খুলনা জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি, হারুন অর রশিদ। সাধারণ সম্পাদক, এ্যাড সুজিত অধিকারী।