চোখে করোনাভাইরাস ২০ দিন টিকে থাকতে পারে বলে চীনের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। চীনের উহান থেকে ইতালিতে ফিরে আসা প্রথম দিকের করোনা আক্রান্ত এক নারীর ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানতে পেরেছেন।চোখে করোনাভাইরাস ২০ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে

সম্প্রতি এ গবেষণা প্রতিবেদনটি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘অ্যানাল অব ইন্টারনাল মেডিসিনে’ প্রকাশ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখে এ জীবাণু প্রবেশ করলে সেখান থেকে গলা ও ফুসফুসে এর সংক্রমণ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। হাত দিয়ে মুখ ও নাকের পাশাপাশি চোখ স্পর্শ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। এমনকি চোখে করোনাভাইরাস ২০ দিন ধরে অবস্থান করে।

চীনের উহানে প্রথম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে করোনার সংক্রমণ। সেখান থেকে ২৩ জানুয়ারি ইতালিতে ফিরে আসেন এক করোনা আক্রান্ত নারী। তার পরিচয় অবশ্য গোপন রাখা হয়েছে। এর ছয় দিন পরই অর্থাৎ ২৯ জানুয়ারি এ রোগের লক্ষণ নিয়ে ওই নারী হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হন। তাকে নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণই উল্লিখিত গবেষণা প্রতিবেদনটিতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, একপর্যায়ে তার নাক করোনাভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়। তবে এর কয়েকদিন পরও তার চোখে এ ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির চোখের তরলে সংক্রমণের ক্ষমতা রাখে তেমন একটি মাত্রায় করোনাভাইরাস টিকে থাকতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ। ওই নারীর শুস্ক কাশি, সর্দিতে নাসারন্দ্র বন্ধ এবং দু’চোখেই পিঙ্কআই নামে প্রদাহজনিত লক্ষণ ছিল। পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ আসে। হাসপাতালে ভর্তির তৃতীয় দিনে চিকিৎসকরা তার চোখের তরল রসের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেন। তারা ওই নারীর চোখে সংক্রামক জীবাণুটির উপস্থিতি পান।

হাসপাতালে ভর্তির ২০তম দিনে পিঙ্কআই লক্ষণ থেকে তার চোখ মুক্ত হয়। কিন্তু এর পরদিনও তার চোখের তরলের পরীক্ষায় করোনাভাইরাসের জেনেটিক পদার্থের উপস্থিতি পান। এরপর পাঁচদিন আর এর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফের ২৭তম দিনে আবারও করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মেলে। তবে এর কয়েকদিন আগে থেকেই তার নাকে এর উপস্থিতি আর পাওয়া যায়নি। তবে যেহেতু চোখে করোনাভাইরাস ২০ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা খুবই জরুরী।  সূত্র : দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

আপনার মন্তব্য

আপনার মতামত দিন
আপনার নাম