যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক মার্কিন প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করে ২২ নারীর জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে কোম্পানিটিকে প্রায় ৪৭০ কোটি ডলার(৩৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি রাজ্যের এক জুরি। এই কোম্পানির বেবি সোপ, লোশন ও পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশেও ব্যবহৃত হয়।

শুক্রবার (১৩জুলাই) বিবিসি জানায়, এর মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ও ৪১০ কোটি ডলার শাস্তিমূলক জরিমানা হিসেবে ধরা হয়েছে, যার পুরোটাই অভিযোগকারীদের দিতে হবে। জনসনের প্রধান পণ্য বেবি পাউডার নিয়ে ৯ হাজার মামলা চলার মধ্যে শুক্রবার এ রায় দেওয়া হয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জনসন অ্যান্ড জনসন বলেছে, এ রায়ে তারা ‘গভীরভাবে হতাশ। কারণ, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বহুবার পরীক্ষার পর এটা প্রমাণিত যে তাদের পণ্যে কোনো দূষণ নেই। তারা আপিলের পরিকল্পনা নিচ্ছে। ছয় সপ্তাহের এই বিচার চলার সময় ওই নারীরা ও তাদের পরিবার জুরিকে বলেছে, কয়েক দশক ধরে কোম্পানিটির তৈরি বেবি পাউডার ও অন্যান্য পাউডার ব্যবহার করার পর তারা জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত হন।

অভিযোগকারী ২২ নারীর মধ্যে ছয় জন জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।তাদের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ট্যালকম পণ্য ‘অ্যাজবেস্টজে’ দূষিত বলে জনসন অ্যান্ড জনসন ১৯৭০ এর দশক থেকে জানলেও ঝুঁকির বিষয়ে ভোক্তাদের সতর্ক করেনি। তবে এর আগে একই অভিযোগে করা মামলাগুলোতে ক্ষতিপূরণের যেসব রায় দেয়া হয়েছিল তার সবগুলোর বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে গিয়ে জয়ী হয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন।

২০১২ সালের এপ্রিলে একটি ওষুধের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে যথাযথভাবে না জানানোর দায়ে জনসন অ্যান্ড জনসনের ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠান জনসেন ফার্মাসিউটিক্যালসকে ১১০ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানা করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ২০০৭ সাল থেকে মানসিক রোগের চিকিৎসার ওষুধ রিসপারডেল বাজারজাত করছে জনসন অ্যান্ড জনসন এবং তাদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জনসেন ফার্মাসিউটিক্যাল। কিন্তু এই ওষুধ গ্রহণের ঝুঁকি সম্পর্কে তারা মানুষকে পুরোপুরি জানায়নি। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে যুক্তরাষ্ট্রের আরকানস অঙ্গরাজ্যের সরকার। মামলার রায়ে জনজন অ্যান্ড জনসন এবং জনসেন ফার্মাসিউটিক্যালসকে জরিমানার রায় দেয় বিচারক।

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here