দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে, দীর্ঘ কারাবন্দীদের কীভাবে ছেড়ে দেওয়া যায় সে বিষয়টি দেখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।দীর্ঘ কারাবন্দীদের কীভাবে ছেড়ে দেওয়া যায় তা দেখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এই বিষয়সহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাসহ করে তা মোকাবিলায় মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ছোটখাটো অপরাধে যারা দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন এবং খুন, ধর্ষণ ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অপরাধ বাদে অন্যান্য বড় অপরাধে যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ কারাবন্দীদের কীভাবে ছেড়ে দেওয়া যায় সে বিষয়টি দেখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকের পর জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের প্রায় তিন হাজার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

বৈঠকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। করোনোভাইরাস রোধে এখন থেকে যেসব এলাকায় করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হবে, সেই পুরো এলাকাকেই ‘লকডাউন’ করা হবে। এ ছাড়া এখন থেকে অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঢাকায় আসতেও পারবে না এবং যেতেও পারবেন না।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে রোগী শনাক্ত হয়। গত কয়েক দিন ধরে রোগী ও মারা যাওয়ার সংখ্যা বেশি বাড়ছে। গতকাল পর্যন্ত দেশের ১২৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি, ট্রেন, লঞ্চ ও গণপরিবহন বন্ধ রাখাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় মোট পাঁচ প্যাকেজে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সমসাময়িক সময়ে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার নজির নেই। সাধারণত তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সচিবালয়ে এই বৈঠক হয়ে থাকে। গতকালের বৈঠকে সব মন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন না। শুধু যেসব মন্ত্রণালয়ের আলোচ্য বিষয় ছিল সেসব মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সবাই মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসেছিলেন।

এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তৈরি পোশাক শিল্পকারখানা খোলার কথা বলে সারা দেশ থেকে যেভাবে শ্রমিকদের আনা হয় তা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই), মাস্ক উৎপাদনকারী কারখানা ছাড়া বাকিগুলো বন্ধ রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ, সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ৫ এপ্রিল থেকে তৈরি পোশাককারখানা খোলা রাখার তথ্য পেয়ে হাজারো শ্রমিক হেঁটেসহ নানাভাবে ৪ এপ্রিল ঢাকায় আসেন। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ওই দিন রাতে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত গার্মেন্টস বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়। এ অবস্থায় একদিকে শ্রমিকেরা বিপাকে পড়েছেন, আরেক দিকে করোনাভাইরাস বিস্তারের ঝুঁকিও বেড়েছে।