নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক শিক্ষাবার্তা:

এনটিআরসিএ-এর শিক্ষক নিয়োগে পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব নিবন্ধন সনদধারীদের আবেদন ও নিয়োগের সুযোগ সংক্রান্ত হাইকোর্টের সেই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ  আপাতত বন্ধ হয়ে গেলো।

পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব নিবন্ধন সনদধারীদের আবেদন ও নিয়োগের সুযোগ সংক্রান্ত সেই রায় স্থগিত
ফাইল ছবি

সারাদেশে হাজার হাজার পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব নিবন্ধন সনদধারী ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে নিজেদের মধ্যে রিট পরিচালনার জন্য টাকা  তুলে আইনী লড়াই করে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু তাদের সেই শিক্ষক হবার স্বপ্ন ধূলোয় পর্যবসিত হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, এমপিও নীতিমালা জারির আগে এনটিআরসিএ সনদধারী পঁয়ত্রিশোর্ধ প্রার্থীদের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের আবেদনের সুযোগ ও মেধাতালিকা অনুসারে নিয়োগের নির্দেশনা দিয়ে দেয়া হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল আবেদন করেছিল এনটিআরসিএ। রোববার (৫ জানুয়ারি) আপিল আবেদনটি শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে আপিল বিভাগ। আদালত, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর একাধিক সূত্র দৈনিক শিক্ষাবার্তা কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২২ মে এমপিও নীতিমালা জারির আগে এনটিআরসিএ সনদধারী পঁয়ত্রিশোর্ধ প্রার্থীদের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের আবেদনের সুযোগ ও মেধাতালিকা অনুসারে নিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছিল হাইকোর্ট। গত ২২ মে ৩টি রিট পিটিশনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি এ.এফ.এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। সে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ৮ ডিসেম্বর প্রকাশ পায়।

২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের আগে সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরির কোনো বয়সসীমা নির্ধারিত ছিল না, কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুন  জারি করা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করা হয়।

নীতিমালার ধারাবাহিকতায় এনটিআরসিএ শুধু অনূর্ধ্ব ৩৫ প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নীতিমালা জারির পূর্বে যারা এনটিআরসিএ কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং মেধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন; কিন্তু ৩৫ বছর বয়স হয়ে গিয়েছে তাদের আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়নি। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন কয়েকজন প্রার্থী। এ সংক্রান্ত তিনটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে গত ২২ মে এ রায় দিয়েছিল আদালত।

হাইকোর্টের রায়ে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে এমপিও নীতিমালা জারির আগেএনটিআরসি সনদপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে সুযোগ দিতে বলা হয়েছিল। নীতিমালা জারি হওয়ার আগেই এনটিআরসিএর সার্টিফিকেট প্রাপ্তদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩৫ বছরের বয়সসীমা আরোপ না করে আবেদন গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল রায়ে। একই সাথে আবেদনকারীদের মধ্যে যারা সমন্বিত জাতীয় মেধাতালিকা অনুযায়ী যোগ্য তাদের আইন অনুযায়ী নিয়োগ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

এবার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে এনটিআরসিএ। এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, সে আপিল আবেদনটি বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) শুনানির জন্য উত্থাপিত হয়। তবে, পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব নিবন্ধিতদের আইনজীবী শুনানির জন্য সময় চাইলে আগামী রোববার (৫ জানুয়ারি) আবেদনটি ফের আদালতে উত্থাপিত হবে।

২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে মাঝামাঝি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের পৃথক তিনটি এমপিও নীতিমালা জারি করে সরকার। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামা ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮, বেসরকারি কারিগরি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুসারে, ৩৫ বছরের বেশি বয়সী কেউ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন না। পাশাপাশি শিক্ষকদের অবসরের বয়স হবে ৬০ বছর। এর পর একই বছরের ১০ জুলাই হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম থেকে ১৩তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সম্মিলিত একটি জাতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সুপারিশকারী প্রতিষ্ঠান এনটিআরসিএ। এর পর মেধাতালিকা থেকে ৩১ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু নীতিমালায় শর্তের কারণে অনেকের বয়স ৩৫ বছর পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেকেই নিয়োগের আবেদন করতে পারেননি।

বঞ্চিতরা হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট করেন। এসব রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে পৃথক রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পরে এসব রুলের ওপর একসঙ্গে শুনানি করে গত ২২ মে হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট।