স্থানীয়দের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও ব্যাংকগুলোতে মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তি ভিত্তিক সঞ্চয় স্কিম চালুর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈধ চ্যানেলে পাঠানো অর্থের বিপরীতে এধরনের হিসাব খোলা যাবে। সঞ্চয় স্কিমের স্থিতি জামানত রেখে ঋণও দিতে পারবে ব্যাংক। বিশেষ প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষে জমানো টাকা বিদেশে নেওয়া যাবে।

প্রবাসীদের জন্য প্রথমবারের মতো সঞ্চয়ী হিসাব খোলার সুযোগ
প্রতীকি ছবি

বর্তমানে বিভিন্ন প্রবাসী বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও কোনো সঞ্চয়ি স্কিম নেই। রোববার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. হুয়ায়ুন কবির দৈনিক শিক্ষাবার্তা কে বলেন, ডিপিএসের আদলে ব্যাংকগুলোর প্রবাসীদের জন্য সঞ্চয়ী হিসাব খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো এখন প্রডাক্ট প্রস্তাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাবে। এরপর তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদরে সেটা চালু করতে পারবে। এতে করে নিন্ম আয়ের প্রবাসীরা এখন সঞ্চয়ের সুযোগ পাবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশে বেশি আয় করেন এরকম প্রবাসীদের বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে কম আয় করেন তাদের জন্য এধরনের কোনো স্কিম না থাকায় সাধারণত পরিবার পরিজন খেয়ে পরে বা বিলাসিতা করে সব টাকা শেষ করে ফেলেন। এখন মাসিক বা ত্রৈমাসিক সঞ্চয় স্কিম চালুর অনুমতির ফলে প্রবাসীদের স্থানীয়ভাবে আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। আবার বিদেশ থেকে দেশে আসার পর আর্থিক সমস্যার সম্মূখীন হতে হবে না।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, একবছর বা তার বেশি মেয়াদে প্রবাসীদের জন্য সঞ্চয় স্কিম খুলতে পারবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলো। বিদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে সরাসরি অর্থ পাঠানো অর্থ, এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে পাঠানো রেমিট্যান্স নগদায়ন বা প্রবাসীরা দেশে বেড়াতে আসার সময় সংগে আনা বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে হিসাব খুলতে পারবেন। প্রবাসীর নামে পরিচালিত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের স্থিতি নগদায়নের মাধ্যমেও সঞ্চয় স্কিমে অর্থ জমা করা যাবে। বিদেশে যাওয়ার আগেই কোনো ধরনের জমা ছাড়াই এ ধরনের হিসাব খোলা যাবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, প্রবাসীদের সঞ্চয়ী হিসাবের প্রোডাক্ট প্রস্তাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের পর তা গ্রাহকদেও জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। এধরনের সঞ্চয় স্কিমের ওপর প্রতিযোগিতামূলক হারে সুদ দিতে পারবে ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়নের মাধ্যমে পরিচালিত হিসাব বিবেচনায় বিশেষ সুদহার দিতে বলা হয়েছে। আর সঞ্চয় স্কিমের স্থিতি জামানত রেখে ব্যাংক ঋণও দিতে পারবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সঞ্চয় স্কিমের মেয়াদ পূর্তিতে অনিবাসি হিসাবধারির মনোনিত ব্যক্তিকে ব্যাংক উক্ত হিসাবে জমাকৃত অর্থ সুদসহ দিতে পারবে। আবার বিকল্প ব্যবস্থায় উক্ত স্থিতি দিয়ে প্রবাসী ব্যক্তি নতুন করে তার নামে স্থায়ী আমানত হিসাব খুলতে পারবে। স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসার পর উক্ত হিসাবের স্থিতি এককালীন ভাবে কিংবা পেনশন পদ্ধতিতে মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে হিসাবধারী নিতে পারবে। সঞ্চয় স্কিম চলা অবস্থায় হিসাবধারী দেশে ফিরে আসলে ও স্থানীয় উৎসের আয় দিয়ে নিবাসী হিসাবের মতো পরিচালনা করতে পারবে। বিদেশে থাকা অবস্থায় উপযুক্ত কারণে অর্থের প্রয়োজন হলে আবেদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় অর্থ বিদেশে পাঠানোর বিষয় বাংলাদেশ ব্যাংক বিবেচনা করবে।

আপনার মন্তব্য

আপনার মতামত দিন
আপনার নাম