নিজস্ব প্রতিনিধি, দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ভবিষ্যতে থাকবে কি থাকবে না তা প্রধানমন্ত্রী নিজেই এখন দেখভাল করছেন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ভাগ্য নির্ধারণ করতে  শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মত জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের বৈঠকে ঢাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দৃষ্টিনন্দন করতে একটি প্রকল্প অনুমোদনের সময় একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর বই ও পরীক্ষার অনেক বোঝা। এটা কিভাবে কমানো যায় তা ভাবতে হবে। শিশুদের কাছে শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হবে। তাদের বিনোদনের সুযোগ থাকতে হবে।

একনেকের আলোচনার এক পর্যায়ে  শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা নেই। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী ক্লাসে নেয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়। দৈনিক শিক্ষাবার্তা কে একথা নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। উপমন্ত্রীর কথার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সমাপনী পরীক্ষার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেন। এ সময় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকের শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ প্রকল্প’ অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পরীক্ষা ও বইয়ের বোঝা কমানোর  ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি ভাবতে বলেছেন। এবিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মত জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাচ্চাদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অনেক মন্তব্য করেছেন, আলোচনা করেছেন। বাচ্চারা অনেক বেশি বই কাঁধে নিয়ে ঘোরে, কষ্ট হয়। পরীক্ষা নিতে নিতে শেষ করে দিচ্ছি বাচ্চাদের। খালি পরীক্ষা আর পরীক্ষা। উনি মনে করেন, বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে আরও নতুন নতুন চিন্তাভাবনা করার জন্য। মূল কথা হলো-শিশুদেরকে বইয়ের ভার থেকে মুক্ত করতে হবে। তারা যেন খেলাধুলা করতে পারে। শিশুদের বইয়ের ভার কমাও, আনন্দে থাকতে দাও ইত্যাদি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের চাপ দিয়ে নয়, কিভাবে আনন্দের সাথে পড়ার পরিবেশ তৈরি করা যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পিইসি পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিন বছর আগে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে একবার আলোচনা হয়েছিল সরকারের মধ্যে। তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার পিইসি পরীক্ষা তুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। যদিও পরে তা কার্যকর হয়নি। মঙ্গলবারের  একনেক  সভায় প্রধানমন্ত্রী পিইসির বিষয়ে শিক্ষাবিদদের মতামতা জানতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে আরো নতুন নতুন চিন্তাভাবনা করার জন্য বলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, পিইসি নিয়ে দুটি পক্ষ আছে। কেউ বলছেন ভালো। আবার কেউ বলছেন ভালো না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পরীক্ষার বিকল্প ভাবতে।

শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ অন্যরা বলে আসছেন, লেখাপড়ার নামে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর যে রকম নির্যাতন আর অত্যাচার করা হয় সেটি পৃথিবীর আর কোথাও নেই। পরীক্ষা আর বইয়ের চাপে শিশুরা কৈশোরের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।