বঙ্গবন্ধু স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করল জাতিসংঘ

নিজস্ব প্রতিনিধি। দৈনিক শিক্ষাবার্তা : ৩০ মে, ২০২০।

0
21

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে একগুচ্ছ বঙ্গবন্ধু স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে জাতিসংঘ। ২৯ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষী দিবসে জাতিসংঘের পোস্টাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের যৌথ উদ্যোগে এই ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

জাতিসংঘের প্রকাশিত ১২টি ডাকটিকিটে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, মুজিব বর্ষের লোগো, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত শান্তিরক্ষীদের ছবি। এ ছাড়া আছে জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিয়োজিত বাংলাদেশের দুজন নারী হেলিকপ্টার পাইলটের আইকনিক প্রতিকৃতি।

বঙ্গবন্ধু স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত প্রসঙ্গে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, ‘এটি বঙ্গবন্ধুর শান্তির মতবাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি, যে শান্তির মতবাদের ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। এটি জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে আমাদের প্রতিশ্রুতি এবং আমাদের বীর ও নিঃস্বার্থ শান্তিরক্ষীদের প্রতি সম্মানের এক নিদর্শন।’
বঙ্গবন্ধু স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করল জাতিসংঘ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে জাতিসংঘের অবমুক্ত করা একগুচ্ছ স্মারক ডাকটিকিট। (ছবি: বাংলাদেশ মিশন থেকে পাওয়া)

রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বছরব্যাপী উদ্যোগের অংশ এই বঙ্গবন্ধু স্মারক ডাকটিকিট। এটি জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গৌরবময় অংশগ্রহণেরও স্বীকৃতি, যার শিকড় প্রোথিত রয়েছে ১৯৭৪ সালে সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া কালজয়ী ঘোষণা ‘মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শান্তি একান্ত দরকার’ এবং ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’— এই নীতি-আদর্শে।

অনুষ্ঠানে যেসব শান্তিরক্ষী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিতভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতিও বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ সময় ব্রু হেমলেটের অধীনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে একটি ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতিসংঘ মহাসচিব ২০১৯ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী ৮৩ জন শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পুরস্কারে ভূষিত করেন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের দুজন আত্মোৎসর্গকারী শান্তিরক্ষী রয়েছেন। তাঁরা হলেন কনস্টেবল মোহাম্মদ ওমর ফারুক ও সৈনিক আতিকুল ইসলাম।

এই স্মরণ ও পদক প্রদানের ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমাসহ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির একটি বার্তাও প্রদর্শন করা হয়।

জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে। শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম দেশ বাংলাদেশের ১ লাখ ৭০ হাজার ২২১ জন শান্তিরক্ষী ৪২টি জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ৯টি মিশনে ৬ হাজার ৫৪৩ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কর্মরত।

আপনার মন্তব্য

আপনার মতামত দিন
আপনার নাম