বাসুদেব কুমার পাল, প্রধান শিক্ষক , আমড়াতলা চাঁপড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় , মোংলা।

প্রকাশে, দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ

বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি এখন সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও বৈশ্বিক সমাজ পরিবর্তনের ধারা, ডিজিটালাইজেশন তথা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে লেখাটি লিখতে উৎসাহিত হলাম।

বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি এখন সময়ের দাবি

আমি জানিনা আমার এ লেখা প্রকাশিত হবে কি না অথবা প্রকাশিত হলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে কি না । তার পর ও মাধ্যমিক শিক্ষার তৃণমূলে কাজ করে যে উপলব্ধি জন্মেছে তা না লিখলেই নয় ।

সূক্ষ্ম ভাবে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে কেউ বঞ্চিত , কেউ সুবিধা ভোগী , কেউ নিবেদিত ,কেউ আত্মকেন্দ্রিক । দীর্ঘদিন একই স্থানে চাকরি করার সুবাদে কারো কারো শিকড় এত গভীরে বিস্তৃত যে স্বেচ্ছাচারিতার শাখা প্রশাখা বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত । মূখ্য শিক্ষকতা গৌন হয়েছে আর গৌন পেশাটি মূখ্য হয়েছে -খুঁজলে এমন লোক ও মিলবে ।
আবার কোথাও রয়েছে দলীয়করণ বা গ্রুপিং ।

দীর্ঘদিন একই স্থানে কাজ করার কারণে মতানৈক্য হতেই পারে তবে কখনো কখনো তা স্থায়ী রূপ নিয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে । প্রভাবশালী শিক্ষক বিভিন্ন চাতুরতার মাধ্যমে নিগৃহীত করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষকদের । প্রভাব প্রতিপত্তিহীন শিক্ষক নিবেদিতপ্রাণ হলেও হীনমন্যতায় দিন যাপন করেন, এবং শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে অমনোযোগি হয়ে পড়েন। এর ফলে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়।

উপর্যুক্ত সমস্যার সমাধান দিতে পারে পারে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা । নির্ধারিত সময় পর পর বদলির ব্যবস্থা করা হলে তা যেমন কারো প্রভাব বিস্তারকে বাঁধাগ্রস্থ করবে তেমনি নতুন নতুন পরিবেশে শিক্ষকগন নবোদ্দমে পাঠদান করে শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে পারবেন ।

বদলির মাধ্যমে শিক্ষকগনের মধ্যে অভিজ্ঞতার বিনিময় ঘটবে । বর্তমান ব্যবস্থায় যে শিক্ষক যে প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন নতুন করে অন্য কোথাও চাকরি না নিলে সেখানেই তার কর্মজীবন শেষ করতে হয় । কাজেই তাঁর অভিজ্ঞতা সে প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকে । বদলির মাধ্যমে গুনি শিক্ষকের অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র ফলে সকল বিদ্যালয়ে গুনগত মানের সাম্যতা বজায় থাকবে ।

সম্প্রতি NTRCA এর মাধ্যমে এক অঞ্চলের শিক্ষক অন্য অঞ্চলে নিয়োগ পেয়েছেন । বদলি ব্যবস্থা চালু না হলে দুরবর্তী অঞ্চলে শিক্ষকতা করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য ।

সঠিক এবং সুষ্ঠু ভাবে পাঠদান করতে হলে একজন শিক্ষককে হতে হবে একজন গবেষক , একজন মনোবিজ্ঞানী । নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন , শিক্ষার্থিদের মেধা , যোগ্যতা , ধারন ক্ষমতা বিচার বিশ্লেষণ করেই একজন শিক্ষককে পাঠদান করতে হয় । সে কারণে সকল পেশা অপেক্ষা শিক্ষকতা যে একটি কঠিন পেশা তা শুধুমাত্র বিজ্ঞজনই অনুধাবন করতে পারবেন । তাই শিক্ষকবৃন্দের সুস্থ ও নির্ভার মানসিকতা রেখে পাঠদানের পরিবেশ তৈরির জন্য অবিলম্বে বদলি ব্যবস্থা কার্যকর হওয়া প্রয়োজন । আশা করি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে আন্তরিকতার সাথে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন ।

বাসুদেব কুমার পাল, প্রধান শিক্ষক , আমড়াতলা চাঁপড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় , মোংলা ।