ভারতে করোনা আক্রান্ত ১০ লাখ পেরুলো

করোনাভাইরাস মহামারির সংক্রমণে দিশেহারা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারত। করোনার প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর গত সাড়ে পাঁচ মাসে ভারতে করোনা আক্রান্ত ১০ লাখ পেরিয়ে গেল শুক্রবার। এছাড়া প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মারাও গেছেন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। খবর এনডিটিভির। ভারতে করোনা আক্রান্ত ১০ লাখ পেরুলোভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার সকালে জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৪ হাজার ৯৫৬ জন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন। একদিনের হিসেবে এ সংক্রমণ সর্বোচ্চ। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হলেন ১০ লাখ ৩ হাজার ৮৩২ জন।

করোনা আক্রান্তের পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৮৭ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট ২৫ হাজার ৬০২ জনের প্রাণহানি ঘটলো।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। এ রাজ্যে শুক্রবার পর্যন্ত মারা গেছেন ১১ হাজার ১৯৪ জন। মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা দিল্লিতে প্রাণ গেছে ৩ হাজার ৫৪৫ জনের। তালিকার তৃতীয় স্থানে তামিলনাড়ু রাজ্যে মারা গেছে ২ হাজার ২৩৬ জন। গুজরাটে ২ হাজার ৮৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন করোনায়। এছাড়া কর্নাটকে ১ হাজার ৩২ জন, উত্তরপ্রদেশে ১ হাজার ৪৬ জন ও পশ্চিমবঙ্গে ১ হাজার ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারতে করোনা সংক্রমণের সূত্রপাত কেরালা থেকে। দক্ষিণের এ রাজ্যে ৩০ জানুয়ারি প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল চীনের উহান ফেরত একজনের দেহে। সেই থেকে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছল মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসে।

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখে পৌঁছতে সময় লেগেছিল ১১০ দিন। এরপরই লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে সংক্রমণ। এক লাখ থেকে দুই লাখে পৌঁছতে সময় লেগেছে মাত্র ১৫ দিন। দুই থেকে তিন লাখে ১০ দিন,  তিন থেকে  চার লাখে পৌঁছতে ৮ দিন, চার থেকে পাঁচ লাখে ৬ দিন, পাঁচ থেকে ছয় লাখে ৫ দিন, ছয় থেকে সাত লাখে ৫ দিন, সাত থেকে আট লাখে ৪ দিন, আট থেকে নয় লাখে ৩ দিন সময় লেগেছে। শেষ নয় লাখ থেকে দশ লাখে পৌঁছতেও ৩ দিনই সময় লেগেছে।

সংক্রমণ বৃদ্ধির এই হারে উদ্বেগ বাড়ছে সব মহলে। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি)-এর একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বর্তমান হারে বাড়তে থাকলে আর মাত্র দেড় মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে যেতে পারে ৩৫ লাখে।

বিশ্বে সংক্রমণের দিক থেকে ভারত তৃতীয় স্থানে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরই ভারতের অবস্থান।

আপনার মন্তব্য

আপনার মতামত দিন
আপনার নাম