মাদক গডফাদারদের শাস্তি দিতে নতুন আইন হচ্ছেঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

0
104
দৈনিক শিক্ষাবার্তা পত্র‌িকার সাংবাদিক হতে চান ?

নিজস্ব প্রতিনিধি,দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, মাদক সম্রাট বা মাদক গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা ধরে অভিযান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাদক ব্যবসায় জড়িত মাস্টারমাইন্ডরা সহজেই যাতে পার না পায় সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য পিনু খানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ এ মাদক অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রয়েছে। তবে বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যক্তির দখলে/কর্তৃত্বে/অধিকারে মাদকদ্রব্য না পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে মাদক ব্যবসায় জড়িত মাস্টারমাইন্ডরা সহজেই পার পেয়ে যায়। এ কারণেই নতুন আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতাদানকারী কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ক্ষমতায়িত করা হচ্ছে।

সরকারি দলের ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদক সমস্যা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদকদ্রব্যের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত। বাংলাদেশে হেরোইন, কোডিন মিশ্রিত বিভিন্ন মাদক যা ফেনসিডিল হিসেবে পরিচিত, ইয়াবা ও গাঁজা আমদানি করা হয় না। এগুলো বিভিন্নভাবে আমাদের দেশে পাচার হয়ে থাকে।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ইয়াবা মূলত মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাচার হয়। দেশের অভ্যন্তরে মাদকদ্রব্য প্রবেশের সুযোগ বন্ধের বিষয়ে পাচারকারী/সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে সব বাহিনীর সমন্বয়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সব বাহিনী বদ্ধপরিকর। তাছাড়া ইয়াবা প্রবাহ বন্ধ করার ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ জোন স্থাপনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ইতোমধ্যেই কাউন্টার টেরোরিজম নামে নতুন একটি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরী এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধ যাতে সংঘটিত হতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ এসব অপরাধীকে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে এক লাখ ৩২ হাজার ৮৮৩ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এক লাখ ছয় হাজার ৫৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাছাড়া এসময়ে প্রায় চার কোটি ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here