নিজস্ব প্রতিবেদক। দৈনিক শিক্ষাবার্তা: ২৯ ফেব্রুয়ারি,২০২০।

মোদিকে বাংলার মাটিতে পা রাখতে দেয়া হবে না বলে হুঙ্কার দিলো সমমনা ইসলামিক দলগুলো। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মুসলমানদের ওপর চালানো ধর্মীয় সহিংসতার প্রতিবাদে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে শুক্রবার,২৮ ফেব্রুয়ারি, বিক্ষোভ করেছে সমমনাকয়েকটি ইসলামিক দল।

মোদিকে বাংলার মাটিতে পা রাখতে দেয়া হবে না- ইসলামিক দলগুলোর হুঙ্কার
বায়তুল মোকাররমের সামনে বিক্ষোভরত সমমনা ইসলামিক দলগুলো।

সমমনা দলগুলো হচ্ছে- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মুসলমানদের উপর নির্যাতনকারী মোদিকে বাংলার মাটিতে পা রাখতে দেয়া হবে না। যেকোন মূল্যে মোদিকে প্রতিহত করা হবে। মোদি যদি বাংলাদেশে আসে তাহলে তাকে স্বাগত জানাতে আমরা কাফনের কাপড় পড়ে বায়তুল মোকাররম থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দাঁড়াব। মোদিকে স্বাগত জানাতে সরকারের প্রয়োজন নেই। আমরাই যথেষ্ট।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহ সভাপতি ও ঢাকা মহানগরীর আমির আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সভাপতি আল্লামা আব্দুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।

মাওলানা কাসেমী বলেন, ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদি গোষ্ঠি সে দেশের সাম্প্রদায়িক সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতনের যে নীল নকশা তৈরি করেছে, তার বিরুদ্ধে শান্তিকামী জনতা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কঠোর প্রতিরোধ গড়ে না তুললে বিশ্বশান্তির জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি মেনেই শুক্রবার বিশেষ নমাজের পর বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে ঢাকায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন এই সমাবেশে অংশ নেয়।পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য আগে থেকেই ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ বাহিনী।পাশাপাশি ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা ও জোরদার করা হয়।

বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ হল বায়তুল মোকাররম। ঢাকার এই মসজিদ থেকেই বিভিন্ন সময়ে মুসলিম সংগঠনগুলি তাদের দাবি নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ করে থাকে। বৃহস্পতিবার হেফাজতে ইসলাম সহ বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের নেতৃত্ব একযোগে জানিয়েছিলেন, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যেভাবে মুসলিমদের উপর হামলা হয়েছে। তার প্রতিবাদে শুক্রবার জুম্মার নমাজের পর বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।

সেই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর সমালোচনা করেন বক্তারা। মোদিকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না বলেও ঘোষণা করা হয়।

এদিকে মার্চ মাসেই শুরু বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠান। ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত এই বর্ষ উদ্‌যাপন করা হবে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্ম হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সহ অন্যান্যদের।

দৈনিক শিক্ষাবার্তা/ডিএসবি