দৈনিক শিক্ষাবার্তা পত্র‌িকার সাংবাদিক হতে চান ?

যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ  বাইসাইকেলের হাতল ধরে দাঁড়িয়ে ছিল একশত ছাত্রী। মেঘলা আকাশ বলেই হয়তো দুপুরের রোদ অতটা তীব্র ছিল না। তারা যে খুশি তা দাঁড়ানোর ভঙ্গিতেও প্রকাশ পাচ্ছিল। আর বাইক যে তারা চালাতে প্রস্তুত এমন দৃঢ়তা ফুটেছিল মুখে। তারা দাঁড়িয়ে ছিল যশোর সদর উপজেলার নাটুয়া পাড়ার আব্দল গফুর মোমোরিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। এরা সবাই প্রত্যন্ত গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের সন্তান। আর যে ব্যক্তি তরুণ শিক্ষার্থীদেও মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি হলেন ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও রির্সাচ ইন্সিটিউটিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. আব্দুর রশীদ।

শতছাত্রীর একজন তানিয়া খাতুন। বাড়ি সদর উপজেলার রহমতপুর গ্রামে। নাটুয়া পাড়ার আব্দল গফুর মোমোরিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী।। বাড়ি বিদ্যালয় থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। প্রতিদিন হেটে স্কুলে আসতে হতো তাকে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, গ্রামের এ রাস্তায় বাস বা অটোরিকশায় চলে না। হেটে স্কুলে আসতে খুবই কষ্ট হয়। এখন সাইকেলে করে স্কুলে যাব। ক্লাসে উপস্থিত হতে আর দেরি হবে না। কষ্ট কম হবে।
মুক্তা খাতুন বলেন, স্যার আমাদের সাইকেল উপহার দিয়েছে। এখন আমাদের কষ্ট কম হবে স্কুলে আসতে। ক্লাসে আরও বেশি মনোযোগী হব বলে জানান মুক্তা। কে জে এইচ ইসলামী একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিয়া খাতুন। তিনি বলেন, এখন থেকে হেটে নয় সাইকেলে স্কুলে আসবো। বাসা স্কুল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে। হেটে সে আসা যাওয়া করতো। সে সাইকেল পেয়ে খুশি। শুধু রিয়া নয় সাইকেলে পেয়ে খুশি সাইমা, লিমা, জাবেদাসহ শত ছাত্রী।

নাটুয়া পাড়ার আব্দল গফুর মোমোরিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্তাজুল ইসলাম জানান, আগে মেয়েরা হেটে স্কুলে আসতো। এখন এ এলাকার শত মেয়ের সাইকেল হয়েছে। এতে খুব খুশি তারা। তারা আরও বেশি লেখা পড়ায় মনোযোগী হবে বলে জানান তিনি।

কে জে এইচ ইসলামী একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোশারেফ হোসেন বলেন, সাইকেল পাওয়ার মেয়েরা লেখা পড়ায় আরও উৎসাহিত হবে। তিনি জানান, আর শত মেয়ের সাইকেলপ্রাপ্তি সম্ভব হয়েছে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও রির্সাচ ইন্সিটিউটিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. আব্দুর রশীদ স্যারের কারণে।

মঙ্গলবার সদর উপজেলার নাটুয়া পাড়ার আব্দুল গফুর মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও রির্সাচ ইন্সিটিউটিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলার অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, যশোর জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল, বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী কাজী এহসানুল হক তুহিন, সমাজ সেবার উপপরিচালক অসিত কুমার সাহা প্রমুখ।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলার অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন শিক্ষার্থীদেরকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, শিক্ষিত জাতি ছাড়া উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। দেশেকে মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তর করতে হলে আগে জাতিকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায় করা কঠিন হবে।

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও রির্সাচ ইন্সিটিউটিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. আব্দুর রশীদের বলেন, বড় বিনিয়োগ হল ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করে তোলা। কারণ তারা এক দিন দেশের কর্ণধর হবে। তাই মেয়েদেরকে বাল্য বিবাহ না দিয়ে তাদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলাল আহবান জানা তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আওয়াল বলেন, তোমরা মাদককে ঘৃণা করবে। যে বন্ধু তোমার হাতে সিগারেট ধরিয়ে দেয় সে তোমার বন্ধু হতে পারে না। তার থেকে দূরে থাকবে। তবেই তোমরাই আদর্শ মানুষ হবে। দেশে ও জাতির কল্যানে কাজ করবে।

আলোচনা শেষে করগিজ রিপাবলিকের অনারারি কনসাল জেনারেল কাজী সামছুল হক প্রদত্ত সাইকেল নাটুয়া পাড়ার জি এম এস এস ফাউডেশনের উদ্যোগে যশোরের ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একশত ছাত্রীদের মাঝে সাইকেল বিতরণ করা হয়। যশোরের সদর উপজেলার ছাত্রীদের মাঝে তা বিতরণ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here