দৈনিক শিক্ষাবার্তা পত্র‌িকার সাংবাদিক হতে চান ?
নিজস্ব প্রতিনিধি, দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ ২৫ জানুয়ারি ২০১৯।
গত ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ ইং তারিখে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে নিবন্ধন সনদ পাওয়া ১০৫ জনের পদ সংরক্ষণ করতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। নির্দেশে বলা হয়েছিল রিট চলাকালীন সময় পর্যন্ত এ পদ সংরক্ষণ করতে হবে। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) জনবল কাঠামো নীতিমালা-২০১৮ এর অধীন শিক্ষক নিয়োগের বয়স ৩৫ বছর নির্ধারণ কেন অবৈধ হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। পৃথক রুলে ওই নীতিমালা জারির আগে এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন সনদ পাওয়া ৩৫ বছর ঊর্ধ্বদের বৈধ প্রার্থী হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তার কারণও জানতে চেয়েছেন আদালত।
একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গাইবান্ধার এটিএম শরিফুল ইসলাম, মাগুরার মোঃ আয়ুব আলী, পিরোজপুরের শংকর কুমার মজুমদার, ঝিনাইদহের মোঃ হাবিবুর রহমানসহ ১০৫ জন শিক্ষক রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে জনবল কাঠামো নীতিমালার ১১ এর ৬ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন তারা। শিক্ষা সচিব ও এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায়, ৩৫+নিবন্ধন সনদধারী ২৩০ সদস্য‌ের করা অপর একটি রিটের বিজ্ঞ আইনজীবিরা ১০৫ জনের করা রিটকে অনুসরন করে গতকাল ২৪ জানুয়ারি ২০১৯ ইং রোজ বৃহস্পতিবার একটি লিখিত ও মৌখিক আবেদন পেশ করেন। আবেদনের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো,রিট  চলাকালীন সময় পর্যন্ত হাইকোর্ট ১০৫ জনের পদ সংরক্ষণ করতে  অন্তর্বর্তীকালীন যে নির্দেশ দিয়েছেন  তদ্রুপ ২৩০ জনের পদ সংরক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ২৩০ জনের আইনজীবিরা আদালতের কাছে একটি লিখিত ও মৌখিক আবেদন পেশ করেন।
আদালত, আবেদনটি যাচাই বাছাই করে পরবর্তী নিয়োগে ২৩০ জনের পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। এবং ১০৫ জনের করা রিটে, বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ, শিক্ষা সচিব ও এনটিআরসিএ- এর চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্য‌ে রুলের যে জবাব দেবার নির্দেশ দিয়েছিল সেই রুলের সাথে সমন্বয় সাধন করে ২৩০ সদস্য‌ের করা রিটটিও অন্তর্ভুক্ত করেন এবং উক্ত রুলের জবাবের আগ পর্যন্ত কোর্ট মুলতবি ঘোষণা করেন। আদালতের একাধিক সূত্র “দৈনিক শিক্ষাবার্তা”কে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
উক্ত রিটের (২৩০সদস্য) বিষয়ে “৩৫+নিবন্ধনধারী ঐক্য পরিষদের” আহবায়ক ও সমন্বায়কারী কামরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,” আইন যেহেতু সকলের জন্য সমান তাই আমার বিজ্ঞ আইনজীবিরা ৩৫+নিবন্ধনধারীদের করা বিভিন্ন রিটে হাইকোর্টের জারি করা রুলের পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখেন যে ১০৫ জনের করা একটি রিটে আদালত ঐ ১০৫ জনের পদ অন্তর্বর্তিকালীন সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন,তাহলে আমাদের ২৩০ জনের পদ সংরক্ষণ কেন নয়। সেজন্য আমার আইনজীবিরা পদ সংরক্ষণের বিষয়টি অনুধাবন করে ২৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আদালতের কাছে ২৩০ জনের পদ সংরক্ষণের আদেশ চেয়ে মৌখিক আবেদনের পাশাপাশি একটি লিখিত আবেদন পেশ করেন। মহামান্য আদালত আবেদনটি যাচাই বাছাই করে ২৩০ জনের পদও সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ৩৫+ নিবন্ধনধারীরা সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এই আইনের মাধ্যমেই আমাদের জয় নিশ্চিত করবো। আমরা আইনের মাধ্যমেই একদিন সুবিচার পাবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আদালত যেহেতু ১০৫ সদস্যযুক্ত রিটের সাথে ২৩০ সদস্যযুক্ত রিটটি সমন্বয় করে পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে রুলের জবাব পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছেন, তাই উক্ত সময় (১৩ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত রিটকারী সকলকে ধৈর্য ধারন করতে এবং উক্ত তার‌িখে সকল রিটকারীদ‌ের আদালত‌ে উপস্থিত থাকার জন্য ব‌িশেষভাবেরিট চলাকালীন সময় পর্যন্ত ২২৭ জনের পদ সংরক্ষণের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ প্রদান। অনুরোধ করেছেন।
বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here