রোজা রাখলে পেটে গ্যাসের সমস্যা হলে..যা যা করণীয়।

0
291
দৈনিক শিক্ষাবার্তা পত্র‌িকার সাংবাদিক হতে চান ?

ব‌িশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ অনেকে পেটে গ্যাসের সমস্যায় ভুগে থাকেন। রোজা রাখলে এর পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সঠিক নিয়ম আর সঠিক খাবার খেলে এই সমস্যার সমাধানও নিশ্চিত।

প্রথমত নিয়মের গড়মিলের কারণে প্রথমে ওষুধ খাওয়ার সময় নির্দিষ্ট করে নিতে হবে। প্রথম কয়েকদিন সমস্যা হতে পারে। কয়েকদিন গেলেই অ্যাডজাস্ট হয়ে যাবে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন রোজা রেখে আমরা ইফতারে যেসব ভাজাপোড়া খেয়ে থাকি সেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন।

বিজ্ঞাপন

ইফতারে এমন কিছু খাবার খাবেন যেগুলো অ্যাসিডিটির সমস্যা করবে না। নিচের খাবারগুলো সম্পর্কে জেনে নিন যেগুলো আপনার গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে অথবা যেগুলো খেলে আপনার গ্যাসের সমস্যা দূর হতে পারে।

যা খাবেন নাঃ
১.ডাল ও ডাল জাতীয় খাবার: ডাল, বুট, ছোলা, বীণ, সয়াবিন ইত্যাদি ধরণের খাবার গ্যাস উদ্রেককারী খাবার। এগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, সুগার ও ফাইবার যা সহজে হজম হতে চায় না। ফলে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে পেটে।

২. ব্রকলি, পাতাকপি, বাঁধাকপি: এইধরনের সবজিগুলোতে রয়েছে ‘রাফিনোজ’ নামক একধরণের সুগার উপাদান যা পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া ফারমেন্ট না করা পর্যন্ত হয় হয় না। এবং এই অবস্থায় পেটে গ্যাসের সমস্যা বৃদ্ধি পায়।

৩. দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার পর যদি দেখেন পেটে গ্যাস হচ্ছে তার অর্থ হচ্ছে আপনি লাক্টোজ ইন্টলারেন্ট অর্থাৎ আপনার দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার হজমে সমস্যা রয়েছে। হজম হয় না বলেই এগুলো আপনার পেটে গ্যাস উদ্রেকের জন্য দায়ী।

৪.আপেল ও পেয়ারা: আপেল ও পেয়ারাতে রয়েছে ফাইবার এবং ফ্রুক্টোজ ও সরবিটোল নামক সুগার উপাদান যা সহজে হজম হতে চায় না। এতে করেও গ্যাস হয় পেটে।

৫. লবণাক্ত খাবার: লবণের সোডিয়াম অনেক বেশি পানিগ্রাহী। অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খেলে দেহে পানি জমার সমস্যা দেখা দেয়। পাকস্থলীতেও সমস্যা শুরু হয় ও খাবার হজম হতে চায় না।

যা খাবেনঃ
১. শসা: শসা পেট ঠাণ্ডা রাখতে অনেক বেশি কার্যকরী খাদ্য। এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পেটে গ্যাসের উদ্রেক কমায়।

২.দই: দই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে করে দ্রুত খাবার হজম হয়, ফলে পেটে গ্যাস হওয়ার ঝামেলা দূর হয়।

৩.পেঁপে: পেঁপেতে রয়েছে পাপায়া নামক এনজাইম যা হজমশক্তি বাড়ায়। নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করলেও গ্যাসের সমস্যা কমে।

৪.কলা ও কমলা: কলা ও কমলা পাকস্থলীর অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে। এতে করে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও কলার স্যলুবল ফাইবারের কারণে কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষমতা রাখে।

৫. আদা: আদা সবচাইতে কার্যকরী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার। পেট ফাঁপা এবং পেটে গ্যাস হলে আদা কুচি করে লবণ দিয়ে কাঁচা খান, দেখবেন গ্যাসের সমস্যা সমাধান হবে।

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here