শনিবার থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু।

0
9

নিজস্ব প্রতিনিধি,দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ
শনিবার থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু।

মাধ্যমিক স্তরে এসএসসিতে গত দুই বছরে ঝরে পড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী। আগামীকাল শনিবার ২ ফেব্রুয়ারি থেকে যারা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে গত দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে নিবন্ধন করেছিল ২২ লাখ ৮৭ হাজার ৩২৩ শিক্ষার্থী। কিন্তু এবার তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৭ জন। নিয়মিত ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন ছাত্রছাত্রী এই দুই বছরের ব্যবধানে শিক্ষার ধারাবাহিকতা থেকে ছিটকে পড়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষা দেবে ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্বিক দিক সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

ঝরে পড়ার এই বিপুল হার নিয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃত হিসেবে পরীক্ষার্থী কমেনি। গত দুই বছর আগে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করে থাকে। তাদের মধ্যে অনেকে টেস্ট পরীক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ে ফেল করায় বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। এ কারণে অনেকে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন টেস্ট পরীক্ষায় আরও মনোযোগী হয় ও ভালোভাবে পড়ালেখা করে- এ কারণে টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করলে পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। দুর্নীতি দমন কমিশনেরও (দুদক) এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার সারাদেশে মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে শুধু এসএসসিতে ১৭ লাখ ১০২ জন, দাখিলে ৩ লাখ ১০ হাজার ১৭২ জন এবং ভোকেশনালে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৯ জন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গতবারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের ফলে ২০১৮ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। একই পদক্ষেপ এবারও নিচ্ছি, তাই প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, গুজবের পেছনে ছুটে যেন বিভ্রান্ত না হন তারা। কোনো বিপদে না পড়েন।
ডা. দীপু মনি আরও বলেন, এসবের পাশাপাশি বেশকিছু সচেতনতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্নিষ্টরা ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। এবারও পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ। শুধু কেন্দ্রসচিব একটি সাধারণ মোবাইল ফোন (স্মার্টফোন নয়) ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা কেউ প্রশ্ন খুঁজতে বের হবে না।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থকে ২৫ ফেব্রুয়ারি হবে তত্ত্বীয় পরীক্ষা। আর ২৬ ফেব্রুয়ারি সঙ্গীত বিষয়ের এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চের মধ্যে অন্য বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবারও বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশের উত্তর আগে দিতে হবে। পরে নেওয়া হবে সৃজনশীল/রচনামূলক অংশের পরীক্ষা। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা কক্ষে নির্ধারিত আসনে বসতে হবে।
গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জিয়াউল কবির ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here