দৈনিক শিক্ষাবার্তা ডেস্ক :

সন্তান স্কুলে না গেলে মা-বাবাকে দুই বছর পর্যন্ত জেল খাটতে হতে পারে। জিম্বাবুয়ে সরকার স্কুলে ঝরে পড়া ঠেকাতে অভিনব এই শাস্তির বিধান করেছে। দেশটির দুর্বল অর্থনীতির কারণে স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। এ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ১৬ বছর পর্যন্ত শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।সন্তান স্কুলে না গেলে মা-বাবাকে জেল খাটতে হবে

নতুন এই আইন অনুযায়ী সন্তান স্কুলে না গেলে মা-বাবাকে দুই বছর পর্যন্ত কারা ভোগ শাস্তি হতে পারে। এছাড়া ২৬০ ডলার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। স্কুলের বেতন দিতে না পারলে অথবা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বহিষ্কার করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এতে ১২ বছর স্কুলে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্রচেষ্টাকে সাহসী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন শিক্ষা  বিশ্লেষকরা। তবে অনেকের মতে, তীব্র সংকটের মধ্যে বিনা মূল্যে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে সরকার। স্কুল থেকে শিশুদের ঝরে পড়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, গর্ভধারণ করা, বাল্যবিয়ে, স্কুলের দীর্ঘ দূরত্ব এবং আগ্রহের অভাব। খাবার কিনতে সংগ্রাম করতে হওয়ায় মা-বাবা শিক্ষায় কম খরচ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জিম্বাবুয়েতে বেতন দিতে না পারায় ৬০ শতাংশ শিশুকে বের করে দেয়া হয় স্কুল থেকে। এছাড়া অনেক স্থানে ২০ শতাংশ শিশু স্কুলে যায় না।জিম্বাবুয়ের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর তার নেয়া শিক্ষানীতি প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এতে জিম্বাবুয়ের কৃষ্ণাঙ্গ অধিবাসীদের জন্য স্কুলে যাওয়ার বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে নব্বইয়ের দশকে বিনা মূল্যে শিক্ষাব্যবস্থার সমাপ্তি টানা হয়, ফলে দেশটিতে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। বিদেশি মুদ্রা, খাদ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে। আফ্রিকার এক সময়ের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য উৎপাদনকারী দেশটি এখন খরার কবলে ভুগছে।