স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় ‘সেইফটুডোফ’ চেম্বার স্থাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি। দৈনিক শিক্ষাবার্তা : ১৪ জুন, ২০২০।

0
31

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ব্যাচ ’৯৭ এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি ‘সেইফটুডোফ’ নামে দুইটি কাস্টমাইজড ডিস্ইনফেক্শন চেম্বার নির্মান ও ব্যবহারবিধি নির্ধারণ করা হয়। এগুলো স্থাপন করা হয় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারী হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে, যারা শুরু থেকে সাহসিকতার সাথে করোনা পজিটিভ রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় 'সেইফটুডোফ' চেম্বার স্থাপন
জীবাণুমুক্তকরণ চেম্বারের সামনে দাঁড়িয়ে লেখক ড. এ.বি.এম. তৌফিক হাসানসহ কয়েকজন।

খুব শিগগিরই একই চেম্বার বসানো হবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে। হাসপাতাল দুটির কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এবং দ্বায়িত্বরত ডাক্তারদের কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যেই এই চেম্বার তৈরির উদ্যোগ।

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে কোভিড ওয়ার্ডে ডিউটিরত স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রায়ই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং একটি অংশ মৃত্যুবরণ করছেন। হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীদেরদের সংক্রমণের অন্যতম বড় উৎস হচ্ছে পিপিই ছাড়ার সময়। কারিগরী ভাষায় একে ‘ডোফিং’ বলা হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, করোনা ভাইরাস বিভিন্ন ধরনের সারফেস যেমন মেডিকেল গাউন, সার্জিকাল গ্লোভস (ল্যাটেক্স), মাস্ক, গগলস ও ফেস-শিল্ড (প্লাস্টিক, পিভিসি, সিলিকন রাবার) এর উপর নূন্যতম এক দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত অস্তিত্ব নিয়ে অবস্থান করতে পারে। সুতরাং কোভিড ওয়ার্ড থেকে দ্বায়িত্ব পালন শেষে একজন স্বাস্থ্যকর্মী যে পিপিই পরে বের হন, তার বহির্ভাগে করোনা ভাইরাস থাকা স্বাভাবিক। এসময় তাড়াহুড়ো করে ভাইরাসযুক্ত পিপিই ছাড়তে গিয়ে অনেকে অজান্তে আক্রান্ত হন।

কোভিড ক্রাইসিসের আগে ‘ডোফিং’ প্রক্রিয়া নিয়ে এভাবে ব্যাপক আকারে ভাবার কখনো প্রয়োজন পড়েনি। স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকলগুলোই সাবধানতার সাথে অনুসরণ করা হতো এবং মৃতুঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপক সংক্রমণের সম্ভাবনা আগে অনেক কম ছিলো। কিন্তু কোভিড মহামারির সময়, বিপুল সংখ্যক ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিদিন পিপিই পরিধান করছেন এবং দ্বায়িত্বশেষে সেসব ছাড়ছেন। বাংলাদেশের ডোফিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কম থাকায় সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি।

বাংলাদেশের মত একটি জনবহুল দেশে, যেখানে প্রতি এক হাজার জনে মাত্র ৬ জন ডাক্তার বা নার্স আছেন, সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপট উন্নত দেশগুলোতে অনুপস্থিত বিধায়, এধরনের চেম্বার ডেভেল্পমেন্টে বা কনসেপ্ট নিয়ে কম গবেষণা করা হয়েছে। তথাপি, বাংলাদেশের এই  জরুরি সময়ে যদি ডোফিংয়ের আগেই জীবাণুনাশক মিস্টিং করে পিপিইগুলোকে জীবাণুমুক্ত করা যায়, তাহলে যুক্তিযুক্ত ভাবেই সেটা এই প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমণের ঝুঁকির মাত্রা অনেকখানি কমিয়ে আনা যাবে।

এই ধারণার উপর ভিত্তি করে আমরা কাজ শুরু করি। এখানে উল্লেখ্য যে, আমাদের এই ‘সেইফটুডোফ’ ডেভেল্পমেন্ট টীমে পি. এইচ. ডি. ডিগ্রিধারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, মলিকুলার বায়লোজিস্ট, গবেষক, ইন্ডাস্ট্রিতে শীর্ষপদে আসীন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, হাইড্রলিক ইঞ্জিনিয়ার, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, পরিকল্পনাবিদ প্রমুখ আছেন। এ কাজটি করতে গিয়ে আমরা নিজেদের বারংবার প্রশ্ন করেছি যে, এ পদ্ধতিটি কতটুকু বৈজ্ঞানিক ও কারিগরী যুক্তিযুক্ত এবং যথাযথ গবেষণা উপাত্ত ভিত্তিক?
প্রথমে আসি জীবাণুনাশক ছিটিয়ে সাধারণ মানুষকে জীবাণুমুক্ত করার ধারণাটা নিয়ে। একজন কোভিড রোগীকে বহির্বিভাগে জীবাণুনাশক ছিটিয়ে সম্পূর্ণরুপে জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব নয়- এটা সাধারণ জ্ঞান। তারপরও ডিস্ইনফেক্শন টানেলের ব্যবহার চারপাশে এত বেশি দেখছি কেন? আসলে মানুষ যেটা চায় সেটা হচ্ছে অফিসে-শিল্পকারখানায় আসা কেউ যেন পরিধেয় কাপড়, জুতো বা হাতের ব্যাগে এই জীবাণু বহন করে না আনে। তাদের এই চাওয়াটি অমূলক নয় বরং নিজেদের কর্মক্ষেত্র নিরাপদ, জীবাণুমুক্ত রাখতে সবাই চাইবে- সেটাই স্বাভাবিক। আমরা নিজেরাই যখন নিতান্ত প্রয়োজনে বাহিরে যাই, তখন ঘরে ঢোকার সময় ডিস্ইনফেকটেন্ট স্প্রে করি এবং বিভিন্নভাবে স্যানিটাইজ করে থাকি। বাজারে বাণিজ্যিকভাবে এধরণের স্প্রেই পাওয়া যায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড এর নামে। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, এধরণের ডিস্ইনফেকটেন্ট স্প্রে মানুষের শরীর, ত্বক ও চোখের জন্য সংবেদনশীল। এ ধরণের রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে চামড়ার সংস্পর্শ অথবা নিশ্বাসে গমন, কোনোটাই কাম্য নয়। এই কারনে সাধারণ মানুষের উপর জীবাণুনাশক স্প্রে বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে ।
আমরাও সেই কারনে প্রথম থেকেই সকল সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য এরকম কোন টানেল বানানোর ঘোর বিরোধী অবস্থান নেই এবং সেই ব্যবহারটা ‘সেইফটুডোফ’ ডেভেল্পমেন্টে বিবেচনায় আনাই হয়নি। শুধুমাত্র এটি ফুল সেট পিপিই পরিহিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যই বানানো যার ফলে ব্যবহারকারীর শরীর, চোখ, নাক, ও মুখ ডিস্ইনফেকটেন্টের সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা নেই।
‘সেইফটুডোফ’ বানানোর সময় মূলত তিনটি ব্যাপারে ব্যাপক রিসার্চ বেসড স্টাডি করা হয়েছে। প্রথমত, সিস্টেমটি কোভিড-১৯ ভাইরাস মারতে পারে কিনা। দ্বিতীয়ত, সিস্টেমটি মানুষের জন্য নিরাপদ সীমা মেনে ডিসইনফেক্ট করতে পারে কিনা এবং তৃতীয়ত, সিস্টেমটি পরিবেশ এর জন্য নিরাপদ কিনা। এই তিনটি প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর নিয়েই আমরা অনেকগুলা সমাধানের মধ্যে সবচেয়ে অপটিমাম সল্যুশনটি নির্বাচন করে ‘সেইফটুডোফ’ নির্মাণ করেছি।
এই ‘সেইফটুডোফ’ ডিস্ইনফেক্শন চেম্বার ডেভেল্পমেন্টের পুরো পদ্ধতিটাই একটা সমন্বিত প্রক্রিয়া। হাইড্রোলিক সিস্টেমটা কেমন হবে, তার অপারেশন প্রক্রিয়া অটোমেটিক হবে নাকি সেমি-অটোমেটিক হবে, তা থেকে মিস্ট ড্রপলেট সাইজ কেমন হবে, কোন ডিসইনফেক্ট্যান্ট সল্যুশন টা ব্যবহার করা হবে, তার মাত্রা এবং সেটার কার্যকারিতা কতটুকু, স্থানীয় ভাবে পাওয়া যায় কি না, ডোজিং ভলিউম, এক্সপোজার টাইম, কন্টাক্ট সময় কত হবে, এর ক্ষতিকর দিকগুলো কি কি এবং এ সংক্রান্ত উপাত্ত কি আছে – এ সব গুলো নিয়ে বার বার এনালাইসিস করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল ক্যালকুলেশান করা হয়েছে। এসব কাজে, টীমের বাইরেও দেশ ও বিদেশে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হয়েছে। যেহেতু কোভিড পরিস্থিতি অভূতপূর্ব, কাজেই অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে পরোক্ষ উপায়ে এবং প্রামাণিক তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে।
‘সেইফটুডোফ’ এর হৃদপিন্ড হলো চেম্বারের হাইড্রোলিক সিস্টেম। এখানে হেভি-ডিউটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেডের পাম্প (১ অশ্বশক্তি) ব্যবহার করা হয়েছে যা অত্যন্ত নিখুতঁভাবে প্রয়োজনীয়মাত্রা ও চাপ অনুযায়ী ডিসইনফেক্ট্যান্ট ডোজিং করতে পারে। ভালো মানের মিস্ট তৈরী করার জন্য বায়ুচাপের ন্যূনতম ১৫ গুণ মাত্রার চাপ এবং মাইক্রোন সাইজের নজল প্রয়োজন হয়। আমাদের এই যন্ত্রপাতি দিয়ে যে মিস্ট তৈরী হয় তার ড্রপলেটের ব্যাস আনুমানিক ২০ মাইক্রোন বা ছোট যা সুন্দরভাবে এটোমাইজড হয় এবং চেম্বারের ভেতর একটা ঘণকুয়াশার আবহ তৈরি করে। এ ধরনের মিস্টিং ড্রপলেটের সারফেস এরিয়া ও আয়তনের অনুপাত অনেক বেশি হওয়ায় ভাইরাসের সাথে কার্যকরীভাবে কাজ করতে পারে বলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। অন্যদিকে, সাধারণমানের নজল থেকে যে স্প্রে (ড্রপলেটের ব্যাস ১০০ মাইক্রোন বা তার বেশি) বের হয় তা ভাইরাসের সাথে মোটেও কার্যকরী নয়। আমরা এ বিষয়টিকে অন্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সিস্টেম ডিজাইন করেছি।
তদপুরি, আমাদের চেম্বারে সলিনয়েড ভাল্ব ব্যাবহার করা হয়েছে যাতে করে ডিসইনফেক্ট্যান্ট পাম্পিং ইলেক্ট্রনিক্যালি কন্ট্রোল করা যায় এবং সেন্সেরের সিগনাল পেয়ে সিস্টেম কুইকলি রেসপন্স করতে পারে। সম্পূর্ণ অটোমেটিক ফাংশন ছাড়াও আমাদের হাইড্রোলিক সিস্টেম এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে করে সেন্সরে ত্রুটি হলে (আর্দ্রতা বা আলোর সমস্যা বা অন্য ইলেক্ট্রনিক সমস্যার কারনে), সেমি-অটোমেটিক কিংবা প্রয়োজনে পুরো ম্যানুয়ালি অপারেট করা যায়। এ ধরনের সুবিধাগুলো প্রচলিত চেম্বার/টানেলে অনুপস্থিত বিধায় অনেকক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক সমস্যার কারণে এগুলোকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ডিস্ইনফেক্শন চেম্বারের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল উপাদান- ডিসইনফেক্ট্যান্ট বিষয়ে যাকে সিস্টেমের ব্লাড বলা যায়। সেন্টারস ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেন্সানের প্রকাশিত নির্দেশনা মোতাবেক বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ ডিসইনফেক্ট্যান্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত। এখানে উল্লেখ্য যে, উক্ত রাসায়নিক পদার্থগুলো ডিসইনফেক্ট্যান্ট হিসেবে নিস্প্রান জড় পদার্থ এবং নীরন্ধ্র সারফেসের জন্য অনুমোদিত। হাসপাতালে ব্যবহার্য স্ট্যান্ডার্ড পিপিইগুলো যেহেতু পানিরোধী ফেব্রিক, রাবার ম্যাটেরিয়াল, পিভিসি ইত্যাদি জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি, সুতরাং এগুলোও নিঃসন্দেহে নিস্প্রান ও নীরন্ধ্র। এই যুক্তি ধরে আমরা যে ডিসইনফেক্ট্যান্ট টা উপযুক্ত মনে করেছি তা হচ্ছে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এর নিম্নমাত্রার দ্রবণ। এই ডিসইনফেক্ট্যান্টের সুবিধা হলো, এটি পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব কারন হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের দ্রবণ বিয়োযিত হয়ে শুধুমাত্র পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। এটি বর্ণহীন, অবিষাক্ত এবং অন্যান্য ব্লিচিং উপাদান থেকে কোমল যা ফেব্রিকের রং ও উজ্জলতার ক্ষতি অনেকাংশে কম করে। তদুপরি, এটি সস্তা এবং বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে তৈরী হয়। এই হাইড্রোজেন পার অক্সাইড করোনাভাইরাস কার্যকরীভাবে জীবাণুমুক্ত করার কাজে প্রথম ব্যবহার করা হয় রাশিয়াতে ১৯৭৭ সালে। তখন থেকে নিস্প্রান সারফেসে বিদ্যমান এধরনের ভাইরাস সংক্রমণে কার্যকরীভাবে জীবাণুমুক্ত করার কাজে ০.৫% থেকে ৬% হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের দ্রবণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতদসংক্রান্ত বিবেচনায়, ‘সেইফটুডোফ’-এ আমরা হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের নিম্নমাত্রার দ্রবণকে ডিসইনফেক্ট্যান্ট হিসেবে বিবেচনায় আনি। এ ধরণের প্রতিটা ডিসইনফেক্ট্যান্টের এর সঠিক কার্যকারিতার জন্য একটা সময়সীমা থাকে, যে পর্যন্ত দ্রবণকে সারফেসে থাকতে হয়। তা না হলে এর মূল কাজ যেটা- জীবাণুমুক্ত করা, সেটাই করতে পারে না।
চেম্বারের স্ট্রাকচারাল গঠন করার সময় এর দীর্ঘস্থায়িত্ব ও স্ট্যাবিলিটির কথা ভাবা হয়েছে। বাস্তবতা হলো এটাই, যে পৃথিবীব্যাপী পুরোপুরি নির্মূল হওয়ার আগে কোভিড-১৯ আমাদের সাথে আরও বেশ কিছু সময় থাকবে। কাজেই হাসপাতালগুলোতে, যেখানে এর ব্যবহারটা বেশি, সেখানে আমরা কনস্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়াল এর ক্ষেত্রে কোনো আপোস  করিনি। আর্কিটেকচারিলি চেম্বারকে স্থাপত্যগতভাবে সরল ডিজাইন করা হয়েছে যাতে করে স্বাস্থ্যকর্মীরা খুব সহজে এটি ব্যবহার করতে পারেন। চেম্বার ব্যবহারের সতর্কীকরণ নির্দেশনাবলি উজ্বলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় ভিজুয়াল ইন্সট্রাকশান অন্তর্ভুক্ত করা আছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জীবাণুঘটিত রোগে মানুষের মৃত্যু অনেক কমে এসেছিলো। হৃদরোগ আর ক্যান্সার – ই ছিল মানুষের সবচাইতে বড়ো চ্যালেঞ্জ। ছোট্ট এই করোনা ভাইরাস সব কিছুই ওলোট পালট করে দিয়েছে। সব কিছু ফেলে আবার ঘরের কোনে বসে মানুষকে ভাবতে হচ্ছে অদৃশ্য এ জীবাণুকে কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়। স্বাস্থ্যকর্মীরা একদম সম্মুখভাগে থেকে সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন।
প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে বারবার ঘুরে দাড়িয়ে জয়ী হওয়াটাই মানুষের হাজার বছরের ইতিহাস। সেই আরেকবার ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ছোট্ট একটি প্রচেষ্টা আমাদের এই ‘সেইফটুডোফ’ যা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি অতিরিক্ত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে সাহায্য করবে।
প্রসঙ্গত, সম্পূর্ণ স্থানীয় প্রযুক্তিতে নির্মাণকৃত এই ‘সেইফটুডোফ’ তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন এম. সামিউন নবী (হেড অফ বিজনেস এবং স্ট্র্যাটেজি, আই ডব্লিউ এম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়), ড. আরিফ ইফতেখার (ম্যানেজিং ডিরেক্টর, স্টেলার), মো. তরিকুল ইসলাম (হেড অফ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট, বে ডেভেলপমেন্টস লিঃ), খান জুবায়ের সাইমন (কান্ট্রি ম্যানেজার, এস আই জি কম্বিব্লক বাংলাদেশ লিমিটেড), ইফতেখার রহমান (সহযোগী অধ্যাপক, আর্কিটেকচার বিভাগ, শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট), মো. বখতিয়ার হোসেন (ম্যানেজিং ডিরেক্টর, বিডিএস বিল্ডিং ডিজাইন এন্ড সার্ভিস), কাজী সাইদুর রহমান (সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো), মাসউদুর রহমান খান (নেটওয়ার্ক স্পেশালিস্ট, নোকিয়া সলিউশনস এন্ড নেটওয়ার্কস), মো. আশরাফুল ইসলাম (প্রকল্প পরিচালক, ড্যাপ, রাজউক) এবং মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (ক্লাস্টার হেড, পাবলিক সেক্টর, পি পি পি ও সার্ভিস সেক্টর, সিটি ব্যাংক লিমিটেড)

অধ্যাপক, যন্ত্রকৌশল বিভাগ, বুয়েট।
toufiquehasan@me.buet.ac.bd

আপনার মন্তব্য

আপনার মতামত দিন
আপনার নাম