স্কুলছাত্রীদের ওড়না নিয়ে অপপ্রচার, সেই ভবঘুরে দুলু ফের গ্রেফতার
গ্রেফতার জিয়াউল কবির দুলু। তাঁর পেশা কি কেউ জানে না। ছবি: অভিভাবক ফোরামের স্মরণিকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক। দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ

স্কুলছাত্রীদের ওড়না নিয়ে অপপ্রচার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয়া ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করাসহ বিভিন্ন অপরাধে ভূইফোঁড় অভিভাবক ঐক্য ফোরামের কথিত সভাপতি জিয়াউল কবির দুলুকে গ্রেফতার করেছে মতিঝিল থানা পুলিশ। শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ড্রেস কোড পরিবর্তন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন মতিঝিল থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আশরাফ। এর আগে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারবর্গকে নিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে অপপ্রচার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করায় ডিজিটাল সিকিউরিটি মামলায় দুলুকে গ্রেফতার করা হয়। সেই দফায় তিন মাস জেল হাজতে ছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে আসেন। মামলাটি চলমান। এর আগে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে দুলুর বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় আরেকটি মামলা করেন সাবেক একজন ছাত্রলীগের নেতা। সেই মামলায় দুলু চার্জশীটভুক্ত আসামী।

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে গত শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন। মামলায় জিয়াউল কবির দুলু ও তার সঙ্গী মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ মানিক, মো. সওগাতুল আলম শওকত ও শ্যামলী আক্তার শিমু নামের এক অভিভাবককে আসামি করা হয়।

সম্প্রতি মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ড্রেস কোড পরিবর্তন করে টুপি, স্কার্ফ ও বড় ওড়না ঐচ্ছিক করা হয়। এরপরই অভিভাবকদের একাংশ ছেলেদের টুপি, মেয়েদের ওড়না ও স্কার্ফ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে আন্দোলন করেন। স্কুলছাত্রীদের ওড়না নিয়ে অপপ্রচার করা সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শুক্রবার মামলা হলে দুলুকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিক্ষোভের সময় প্রতিষ্ঠানের ড্রেস কোড পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তিসহ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানহানীকর তথ্য প্রচার করে আন্দোলনকারীরা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করা হয়।

গ্রেফতারের পর দুলুকে সর্বাত্মক সহয়তাকারী সংবাদপত্রের কার্ড ও টেলিভিশনের বুমধারী কতিপয় শিবিরকর্মী আতংকে রয়েছেন বলে জানা যায়। গত কয়েকবছরে দুলুর মাধ্যমে ভিকারুননিসা নূন ও আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি বাণিজ্যের  একটি চক্র গড়ে উঠেছে।  ভবঘুরে হিসেবে পরিচিত কথিত অভিভাবক জিয়াউল কবির দুলুকে ভুইফোঁড় অভিভাবক ফোরাম ও এর কথিত সভাপতি হিসেবে পরিচিত করে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকায় শত শত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শিবিরপন্থী সাংবাদিকরা। আবার জামাত-শিবিরপন্থী টেলিভিশনেও দুলুর বক্তব্য প্রচার করা হয়। দুলুর মাধ্যমে অবৈধ ভর্তি  করায় এইসব কথিত সাংবাদিকরা। ভর্তি না করালে ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। দুলুর ছেলেকে একটি কোচিং সেন্টারে দশ বছর ফাউ পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তথ্য ফাঁস করায় সম্প্রতি দুলু  ওই কোচিং সেন্টারের মালিককে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। দুলুর মেয়েকেও কোচিং সেন্টারে ফাউ পড়ায়। আবার এই দুলুই কোচিংয়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

এদিকে দুলুর গ্রেফতারের খবরে আততিংক হয়ে পড়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কয়েকজন অতিরিক্ত সচিব, উপসচিব, সিনিয়র সচিব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পিও। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের দুই ব্যক্তি। তারা বিভিন্ন সময়ে দুলুকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতেন। দুলুর ডাকা কথিত সেমিনারে যোগ দিয়েছিলেন একজন অতিরিক্ত সচিব।