স্টাফ রিপোর্টারঃ দৈন‌িক শিক্ষাবার্তা | ১০ডিসেম্বর ২০১৮।
স্নাতক সনদ জালিয়াতি করে ১৪ বছর চাকরি।

স্নাতক সনদ জালিয়াতি করে নাচোল উপজেলার খেসবা দাখিল মাদ্রাসার বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক আলাউদ্দিন চাকরি করে চলেছেন ১৪ বছর ধরে। ৫ বছর আগে এমপিওভুক্তির পরও বেতন-ভাতা তুলেছেন মাদ্রাসা থেকে।
নাচোল খেসবা গ্রামের মো. আলাউদ্দিন ১৯৯৯ সালে নওগাঁর মঙ্গলবাড়ী এমএস ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক (পাস) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ওই বছর তার ফলাফল স্থগিত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় ২০০১ সালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার এমএ রউফ ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করা আলাউদ্দিন নামে অন্য এক যুবকের সনদ দিয়ে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের নাচোলের খেসবা দাখিল মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) পদে যোগ দেন তিনি। ২০১৩ সাল থেকে এমপিওভুক্তির সরকারি বেতন-ভাতাও নিয়মিত তুলছেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে তার বিরুদ্ধে হরিরামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন সনদের প্রকৃত অধিকারী আলাউদ্দিন।
নাচোলের খেসবা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আলাউদ্দিনের স্নাতক সনদে পাসের বছর (২০০১), রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের এমএ রউফ ডিগ্রি কলেজে যোগাযোগ করলে বিষয়টি ধরা পড়ে, যার সনদে নাচোলের আলাউদ্দিন চাকরি করছেন, সেই আলাউদ্দিন হরিরামপুরের উত্তর মেরুণ্ডী গ্রামের কোকিল উদ্দিনের ছেলে। সনদের প্রকৃত ব্যক্তি আলাউদ্দিন বর্তমানে একটি ওষুধ কোম্পানিতে সিলেটে কর্মরত। শুধু নামের মিল থাকায় তার সনদে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার আলাউদ্দিন চাকরি করছেন খেসবা দাখিল মাদ্রাসায়। তৎকালীন সময় সনদটি তিনি সংগ্রহ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর-আড্ডা মোড় এলাকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সাব্বির আহম্মেদের সহায়তায়। স্নাতক (পাশ) ওই সনদে শিক্ষার্থীর বাবার নাম না থাকার সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এই জালিয়াতি করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলাউদ্দিন।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সনদ জালিয়াতির কথা স্বীকার করে ভুয়া শিক্ষক আলাউদ্দিন জানান, মানিকগঞ্জের এমএ রউফ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র নন তিনি। তাই সেখান থেকে স্নাতক পরীক্ষায় অংশও নেননি। তবে তিনি দাবি করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভুল করে তাকে ওই কলেজের নামে স্নাতক পাসের এ সনদ দিয়েছে; কিন্তু এই ভুল সনদ দিয়ে কিভাবে চাকরি করছেন, এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি। এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে
স্নাতক সনদের প্রকৃত অধিকারী মো. আলাউদ্দিন জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মানিকগঞ্জে হরিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। খেসবা দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুর রশিদ জালিয়াতি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
নাচোল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন খান জানান, আলাউদ্দিনকে তার কাগজপত্রসহ ডাকা হয়েছিল। কিন্তু টালবাহানা করে তিনি এ পর্যন্ত কার্যালয়ে দেখা করেননি। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পর তার বিষয়ে দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দৈনিক শিক্ষাবার্তা কে জানান।

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here