দৈনিক শিক্ষাবার্তা পত্র‌িকার সাংবাদিক হতে চান ?

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে ৩৫+নিবন্ধনধারী রিটকারীদের ভাগ্য খুলছে ২৯ এপ্রিল। গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ(এনটিআরসিএ)। ২০১৮ এমপিও নীতিমালা অনুসারে বয়সের সীমাবদ্ধতার কারনে ৩৫ উর্ধ নিবন্ধন সনদধারীরা চাকরিতে আবেদন করতে ব্যর্থ হন।কিন্তু উক্ত নীতিমালা জারির পূর্বে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সনদের মেয়াদ ছিলো আজীবন অর্থাৎ চাকরি না হওয়া পর্যন্ত তাদের সনদের মেয়াদ বহাল থাকবে বলে উল্লেখ ছিলো। সেজন্য ৩৫ উর্ধ নিবন্ধন সনদধারীদের মধ্যে শেখ কামরুল ইসলাম (সদস্য সংখ্যা-৩০২জন), এটি এম শরিফুল ইসলাম(সদস্য সংখ্যা-১০৫জন), সমীর কুমার রায়(সদস্য সংখ্যা-১০৪জন),কতৃক পরিচালিত পৃথক পৃথক কয়েকটি গ্রুপ ৩৫+নিবন্ধন সনদ ধারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রিটকারীদের সরাসরি নিয়োগের আরজি করে বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

গত ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ ইং তারিখে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে নিবন্ধন সনদ পাওয়া ১০৫ জনের পদ সংরক্ষণ করতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। নির্দেশে বলা হয়েছিল রিট চলাকালীন সময় পর্যন্ত এ পদ সংরক্ষণ করতে হবে। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) জনবল কাঠামো নীতিমালা-২০১৮ এর অধীন শিক্ষক নিয়োগের বয়স ৩৫ বছর নির্ধারণ কেন অবৈধ হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। পৃথক রুলে ওই নীতিমালা জারির আগে এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন সনদ পাওয়া ৩৫ বছর ঊর্ধ্বদের বৈধ প্রার্থী হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তার কারণও জানতে চান আদালত।

একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গাইবান্ধার এটিএম শরিফুল ইসলাম, মাগুরার মোঃ আয়ুব আলী, পিরোজপুরের শংকর কুমার মজুমদার, ঝিনাইদহের মোঃ হাবিবুর রহমানসহ ১০৫ জন শিক্ষক রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে জনবল কাঠামো নীতিমালার ১১ এর ৬ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন তারা। শিক্ষা সচিব ও এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

তারই ধারাবাহিকতায়, ৩৫+নিবন্ধন সনদধারীদের অন্য দুইটি গ্রুপ যথাক্রমে শেখ কামরুল ইসলাম(সদস্য সংখ্যা-৩০২জন) এবং সমীর কুমার রায়(সদস্য সংখ্যা-১০৪) এর নেতৃত্বে অপর দুটি রিটের বিজ্ঞ আইনজীবিরা এটিএম শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০৫ জনের করা রিটকে অনুসরন করে ২৪ জানুয়ারি ২০১৯ ইং রোজ বৃহস্পতিবার একটি লিখিত ও মৌখিক আবেদন পেশ করেন। আবেদনের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো,রিট চলাকালীন সময় পর্যন্ত হাইকোর্ট ১০৫ জনের পদ সংরক্ষণ করতে অন্তর্বর্তীকালীন যে নির্দেশ দিয়েছেন তদ্রুপ ৩০২জনের ও ১০৪ জনের পদ সংরক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে উক্ত রিট দুইটির আইনজীবিরা আদালতের কাছে একটি লিখিত ও মৌখিক আবেদন পেশ করেন। আদালত, আবেদনটি যাচাই বাছাই করে পরবর্তী নিয়োগে ৩০২ জনের এবং ১০৪ জনের পদও সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। এবং এটি এম শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০৫ জনের করা রিটে, বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ, শিক্ষা সচিব ও এনটিআরসিএ- এর চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের যে জবাব দেবার নির্দেশ দিয়েছিল সেই রুলের সাথে সমন্বয় সাধন করে শেখ কামরুল ইসলাম ও সমীর কুমার রায়ের নেতৃত্বে পৃথক পৃথক ভাবে করা দুইটি রিট ও অন্তর্ভুক্ত করেন এবং উক্ত রুলের জবাবের আগ পর্যন্ত কোর্ট মুলতবি ঘোষণা করেন।

আদালত উক্ত রিটগুলো আমলে নিয়ে রিটের পূর্ণাঙ্গ রায় না হওয়া পর্যন্ত রিটকারীদের পদগুলো সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। এবং তাদের আবেদনের সুযোগ না দেয়াকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, মর্মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এনটিআরসিএ-এর চেয়ারম্যান,শিক্ষা সচিব সহ মোট ৬ জনকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। ৩৫+নিবন্ধনধারীদের পক্ষের আইনজীবিদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা “দৈনিক শিক্ষাবার্তা” কে বলেন,’রাষ্ট্র পক্ষ রুলের যে জবাব দিয়েছেন তা আমাদের উপস্থাপিত সমস্ত তথ্য উপাত্ত ও যুক্তি তর্কের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে, ফলে মহামান্য আদালত তা বিশ্লেষণ করে সর্বশেষ ৩৫+ রিটকারীদের পক্ষেই রায় ঘোষণার জন্য যাবতীয় কার্যাবলী প্রস্তুত করে চুড়ান্ত রায় লেখার কাজ সম্পন্ন করেছেন। ১৮ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হাইকোর্টে শুরু হয় গ্রীষ্মকালীন অবকাশ। যে কারনে রায়টি রাষ্ট্র পক্ষ ও বাদি পক্ষের উভয়ের উপস্থিতিতে ঘোষণার জন্য আগামি ৭ এপ্রিল দিন নির্ধারন করেন।

৭ এপ্রিল চুড়ান্ত রায় ঘোষণার কথা থাকলেও অবশেষে তা ঘোষণা হয়নি। শিক্ষা সচিব রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে অবস্থানের কারন এবং আরও অন্যান্য কারন দেখিয়ে মহামান্য আদালতের কাছে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি চুড়ান্ত রায়ের জন্য ৩ সপ্তাহের সময়ের আবেদন করলে, আদালত উক্ত আবেদনটি আমলে নিয়ে আগামি ২৯ এপ্রিল দিন ধার্য্য করেন যা আদালতের একাধিক সূত্র ‘দৈনিক শিক্ষাবার্তা’কে নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণার ৪ সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্র পক্ষ আপীল না করলে উক্ত সময় পার হবার পর সাধারনত রায় কার্যকর করা হয়। চুড়ান্ত রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্র পক্ষ আপীল করবে কিনা তা রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবির কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি মুখ খুলতে রাজি হননি। অপরদিকে উক্ত রিটগুলোর রিট পিটিশনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্যভুক্ত রিট নেতা এবং “৩৫+নিবন্ধনধারী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক ও সমন্বয়কারী, শেখ কামরুল ইসলামের কাছে রিটের রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,” আমরা অধিকার বঞ্চিত ৩৫ উর্ধ নিবন্ধনধারীরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই অস্তিত্বের লড়াইয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি এবং আমার আইনজীবিরা জানতাম এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতাম যে শেষ পর্যন্ত আমাদের জয় হবেই হবে।ইনশাল্লাহ শেষ পর্যন্ত তাই হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্র পক্ষ যতই ছল ছাতুরি করে কাল ক্ষেপণ করুক না কেনো রায় আমাদের পক্ষেই হবে এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নাই।”

তাই তিনি তার সাথে থাকা ৩৫+ রিটকারী বন্ধুদের বিচলিত না হয়ে ধৈর্য ও সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তাকে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে সকলকে তার পাশে থাকার উদাত্ত আহবান করেছেন যেন তার এই অর্জন কোনোভাবেই ধুলিসাৎ না হয়।

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here