দৈনিক শিক্ষাবার্তা পত্র‌িকার সাংবাদিক হতে চান ?
৯ ডিসেম্বর অভয়নগর মুক্ত দিবস : উদযাপন প্রস্তুতি সম্পন্ন।
বি.এইচ.মাহিনী, অভয়নগর (যশোর)প্রতিনিধিঃ ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮।
৯ ডিসেম্বর ১৯৭১। দেশের অন্যান্য জনপদের মত যশোরের অভয়নগর উপজেলাও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়। তাই এ দিনটি অভয়নগরের আপামর জনসাধারণ বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রজন্মের জন্য গৌরবের। দিবসটিকে ঘিরে আগামিকাল শনিবার সকাল ৯টা ১৫মিনিটে নওয়াপাড়া ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধা পতাকা উত্তোলন, ৯টা ৪৫ মিনিটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সাড়ে ১০টায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচলা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
পৃথিবীর প্রতিটি জনপদের অধিবাসীদের জন্য বিশেষ কিছু দিবস থাকে গৌরবের, অহংকারের। অভয়নগরবাসীদের জন্য তেমন একটি দিবস হলো ৯ই ডিসেম্বর। কেননা ১৯৭১সালের এই দিনেই অভয়নগরের মাটি ও মানুষ পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর নিপিড়ন থেকে মুক্তি লাভ করে। ইতিহাসের এই দিনে অভয়নগরের আকাশে বাংলাদেশের মানচিত্র ও স্বাধীনতার লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দেয় মুক্তিকামী জনতা। ফলশ্রুতিতে অভয়নগর স্বাধীন বাংলাদেশের একটি উপজেলা হবার অধিকার অর্জন করে।
দিবসটির প্রেক্ষাপট জানতে চাইলে অভয়নগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার স,ম, মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ছয় ডিসেম্বর যশোর শহর মুক্ত হওয়ার পর সাত ডিসেম্বর যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এসে নওয়াপাড়ার জুটমিল ও মিলগুলোতে ক্যাম্প গড়ে তোলে এবং সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চালাতে শুরু করে। আট ডিসেম্বর মিত্র-মুক্তিবাহনী রাজঘাট ও শেষ সীমানার মধ্যবর্তী স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। যৌথভাবে আক্রমণে হানাদার বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে এবং শিরোমণি ও ফুলতলা এলাকার দিকে পালিয়ে যায়। নয় ডিসেম্বর অভয়নগর থানা সম্পূর্ণভাবে শত্রুমুক্ত হয়।
অভয়নগর মুক্ত দিবসের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন অভয়নগর উপজেলার মক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মালেক বলেন, ৮ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরাজিত হয়ে অভয়নগর ত্যাগ করে। আমি এবং আমার সহযোদ্ধারা ঐ দিন ভাটপাড়ায় রাত কাটাই। ৯ডিসেম্বর ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই আমরা পীরবাড়ী ঘাট পার হই। ইতিমধ্যে হাজার হাজার জনতা নওয়াপাড়া শহরে জড় হয়ে গেছে। মুক্তির আনন্দে জয় বাংলা স্লোগানে ফেটে পড়েছে গোটা নওয়াপাড়া জনপদ। স্লোগানে মুখরিত জনতা আমাকে পীরবাড়ী ঘাট থেকে নওয়াপাড়া শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ঘাড়ে করেই নিয়ে আসে। এই বিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সমবেত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উৎত্তোলন করেন। রক্ত সূর্য খোচিত গাড়ো সবুজ পতাকা উড়িয়ে মুক্ত বিহঙ্গের মত নিশ্বাস নেয়।
অভয়নগর মুক্ত দিবস উদযাপন সংসদ প্রতিবছরের ন্যায় এবারো দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালী, আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা।
বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Please enter your comment!
Please enter your name here