করোনার কারণে সরকারের নির্দেশ মোতাবেক আমরা অনলাইন ক্লাস নিয়ে আসছি । অনলাইন ক্লাস নিতে গেলে আলাদা ভীতি কাজ করে। কারণ আমার ক্লাসটা শুধু আমার ছাত্রছাত্রীরা দেখেনা সারা পৃথিবীর বিভিন্ন  স্থান থেকে বিভিন্ন জন আমার ক্লাসটা পর্যবেক্ষণ করে মন্তব্য করে। অধ্যক্ষ , কমিটির সদস্য করেই থাকেন। সে জন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। পোশাক-আশাকে চুলদাড়ি তে স্মার্ট থাকতে হয়।অনলাইন ক্লাস : শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দরকার।

অনলাইন ক্লাস নিতে হলে বাড়তি অনেকগুলো জিনিস প্রয়োজন হয়। যেমন একটা স্মার্ট ফোন এমবি বা ওয়াইফাই ,একটি স্টান্ড, একটি হোয়াইট বোর্ড ,একটি মার্কার পেন ,একটি ডাসটার, একটি ফ্রী ক্লাসরুম, পাশাপাশি একজন টেকনিশিয়ান সহযোগিতা ।সর্বোপরি দরকার শিক্ষকের আধুনিক টেকনোলজিতে দক্ষতা। ফেসবুক লাইভে ক্লাস নেওয়া কিংবা শেয়ার করা লেখা এডিট করা এসব বিষয়ে জ্ঞান থাকা।

আমরা যারা বয়সে একটু প্রবীণ টেকনোলজি তে তারা কাঁচা।বিধায় আমরা আমাদের সপ্তম/ অষ্টম কিংবা নবম /দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া সন্তানদের নিয়ে এসব কাজ করিয়ে থাকি। তারপরও কিছু ভুল ত্রুটি ধরা পড়ে ।অধ্যক্ষ স্যার টেলিফোন করে আমাদের ভুলধরিয়ে দেন। তখন লজ্জা পেতে হয় ।কখনো ছাত্রদের নিকট লজ্জা পেতে হয়।

সরকারি হাই স্কুলের শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে । প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চলছে । কিন্তু বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক যারা ৯০ ভাগ শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের কোন অনলাইন ক্লাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি । দেওয়া হয়নি কোন স্মার্টফোন কিংবা অন্য কোনো উপকরণ।

কোন সৈনিক কে যুদ্ধে প্রেরণ করার আগে তাকে যুদ্ধের কলাকৌশল সহ যুদ্ধাস্ত্রের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ।অস্ত্র সরবরাহ করা হয়। আবহাওয়া ও ভৌগলিক বিষয়ে জ্ঞান দেওয়া হয। আমাদের অবস্থা হল বিনা অস্ত্রে বিনা প্রশিক্ষণে এই যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার শামিল।

তাই কর্তৃপক্ষের নিকট আমার বিনীত আবেদন বেসরকারি শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাসের প্রশিক্ষণ সহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হোক । অন্যথায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে গ্রুপ গ্রুপ করে সশরীরে ক্লাস নেয়ার অনুমতি দেয়া হোক।
লেখক,
মোহাম্মদ আলী শেখ,
সহকারী অধ্যাপক,
কাদিরদী ডিগ্রি কলেজ
বোয়ালমারী,ফরিদপুর।