করোনা সংক্রমণের এই সময় হোটেলে থাকা কতটা নিরাপদ?

প্রায় তিন মাস লকডাউন থাকার পর অনেকেই ধীরে ধীরে বাড়ির বাইরে বের হতে শুরু করেছেন। অনেক স্থানেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজের বা বিভিন্ন প্রয়োজনে অনেকে বিভিন্ন শহরে ভ্রমণও শুরু করেছেন। যদিও করোনা সংক্রমণ এখনো চলছে। এই সময় হোটেলে থাকা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অনেকেই হচ্ছেন চিন্তিত।করোনা সংক্রমণের এই সময় হোটেলে থাকা কতটা নিরাপদ?হোটেল এমন একটি ব্যস্ত স্থান, যেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন থাকার জন্য আসে। এ কারণে এখান থেকে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি হয়ে যায়। এটা এখন কমবেশি সবাই জানেন, যেকোন সংক্রামিত ব্যক্তির শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে করোনাভাইরাস দ্রুত আরেকজনের  মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা অন্য ব্যক্তির থেকে ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে এই নিয়ম মেনে সুরক্ষিত থাকা যতটা সম্ভব, হোটেলের লবি বা রেস্তোঁরায় তা অনুসরণ করা বেশ কঠিন। তাই এই সময়ে হোটেলে থাকা বেশ ঝুঁকিরও বটে।

এছাড়া হোটেল যারা হাউসকীপার হিসাবে কাজ করছেন তাদের থেকেও জীবাণু ছড়াতে পারে। মোট কথা হোটেল রুমে যখনই অন্য লোক প্রবেশ করবে তখনই ঘরে জীবাণু ঢোকার সম্ভাবনা বাড়ে।

পাশাপাশি আপনার আগে যারা ওই ঘরে ছিলেন তাদের মধ্যে কেউ সংক্রমিত ছিলেন কিনা এটা জানারও উপায় নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা সংক্রমণের এই সময় যতটা সম্ভব বাড়িতেই থাকতে হবে। যদি সম্ভব হয় তাহলে সব ধরনের ভ্রমণ করা এই সময় এড়ানো উচিত। যদি এটি সম্ভব না হয় তবে মনে রাখতে হবে, আপনার সুরক্ষা নিজের হাতে। যদি জরুরি প্রয়োজনে হোটেল থাকতেই হয় তাহলে হোটেল কর্তৃপক্ষের পাশপাশি আপনারও কিছু বিষয় অনুসরণ করা জরুরি। যেমন-

১. হোটেল রুমের যেকোন অংশে হাত দেয়ার আগে বা পরে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন। বাইরে তো বটেই, ঘরেও মাস্ক ব্যবহার করুন।

২. নিজের সাথে জীবাণুনাশক রাখুন। রুমে ঢোকার সাথে সাথে বেশি ব্যবহৃত কিছু স্থান যেমন- পানির কল, দরজার নব পরিষ্কার করুন।

৩. লিফট বোতামের মতো আপনার হোটেলের রুমের বাইরে কোনও কিছু স্পর্শ করার আগে সচেতন হন। বাইরের কোনও কিছু স্পর্শ করার পর হাত পরিষ্কার করুন। অপরিষ্কার হাতে মুখ, চোখ এবং নাক স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন।

৪. দিনে একবারে ঘর পরিষ্কারের জন্য বেছে নিন।

৫.রেস্তোরাঁয় যাওয়ার পরিবর্তে আপনার ঘরে খাবার আনিয়ে খান। যতটা সম্ভব লোকজনের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

৬. নতুন কোনো হোটেলের পরিবর্তে আপনি আগে থেকেছেন, যাদের সার্ভিস সম্পর্কে জানেন এই সময় এমন কোনও হোটেলে থাকাই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ।

৭. এই সময় হোটেলে থাকা বা রুম বুকিংয়ের আগে করোনা মোকাবেলায় হোটেল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here