ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনের ডাক।

0
607

ঢাকা অফিসঃ সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এ সরকার অনির্বাচিত সরকার। এ সরকারের কথার এক পয়সারও দাম নেই। সংবিধানকে অপব্যবহার করে ৫ বছর ক্ষমতায় রয়েছে। এটা কী বিবেকের পরিচয়? এ দেশে এখন যা হচ্ছে তা মেনে নেয়া যায় না। আইনের শাসন অনুপস্থিত। খালেদা জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে। আজকের এই সমাবেশ থেকে তাকে মুক্তির দাবি করছি। তিনি বলেন, যে দেশে বিরোধী দলীয় নেত্রীকে শ্রদ্ধা জানোনো হয় না, সে দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। বিরোধী দলের জন্য এক আইন, সরকারের জন্য এক আইন এটা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে এ সরকারকে জবাব দিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যাবে। এ দেশে কোনো মহারাজা-মহারাণী নেই। আমরা ঘুমিয়ে থাকতে পারি না, দেশের জনগণকে এবার মুক্ত করে আনবো। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়াও আগামীকালের (আজ) সংলাপে দাবি না মানা হলে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচিও দিয়েছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে গড়ে ওঠা নতুন এই জোট। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সাত দফা দাবি আদায়ে আগামীকাল ৮ নভেম্বর রাজশাহীর উদ্দেশে রোড মার্চ এবং ৯ নভেম্বর সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এছাড়া তফসিল না পেছালে ইসি অভিমুখে পদযাত্রা করার ঘোষণাও দেয়া হয়। সমাবেশে ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আসম আব্দুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, মওদুদ আহমদ, সুলতান মনসুরসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা সবাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করেন। দাবি মানা না হলে আন্দোলনের ডাক দেন। জাতীয় ঐক্যের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের মালিক আজ জেগেছে। তারা তাদের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবে। ‘এ দেশে কোনো রাজতন্ত্র নেই। এ দেশ কোনো মহারাজা-মহারাণীর নয়। ১৬ কোটি জনগণের এ দেশে সরকারি দলের জন্য এক আইন, আর বিরোধীদের জন্য অন্য আইন এমনটা চলতে পারে না।’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি দাবি করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিন। অন্যথায় আপনাদের কঠিন জবাব দিতে হবে।’ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আপনারা পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায়, জেলায়-জেলায় দাঁড়িয়ে যান। দেশ আবার স্বাধীন হবে। জনগণ আবার তাদের মালিকানা ফেরত পাবে। এ দেশে যা হচ্ছে তা মেনে নেয়া যায় না। যখন তখন যাকে তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি আজকের জনসভা থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি। তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘যখন তখন যাকে তাকে গ্রেপ্তার করবেন? স্বাধীন দেশে এটা চলতে পারে না। আর ভোটারবিহীন সরকার তো আরও পারে না। নির্বাচিত সরকার হলেও এটি পারে না। এটি সংবিধান সম্মত নয়।’ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রাস্তাঘাট বন্ধ করে, বাস-লঞ্চ বন্ধ করে জনগণকে নিষ্ক্রিয় করা যাবে না। আজকের জনসভা তারই প্রমাণ। জনগণ তাদের দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ। মনে রাখবেন, ইতিহাস প্রমাণ কোনো বাধা বিপত্তি এ দেশের জনগণ কখনো মেনে নেয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ভোট কেন্দ্রের পাহারাদার হতে হবে। ভোটের পাহারাদার হলে স্বাধীনতার পাহারাদার হওয়া যাবে। রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে এটা আমাদের অধিকার।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া জনগণের দাবি আদায় সম্ভব হবে না। সবাই এক থাকলে আমাদের অধিকার আদায় হবেই। আমরা দেশের জনগণকে মুক্ত গণতন্ত্র দিব।’ ড. কামাল বলেন, ‘তিন মাসের কথা বলে ভোট ছাড়াই পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলেন। এটা ভাবতে অবাক লাগে। জনগণ জেগে উঠেছে, এবার ভোটের অধিকার নিশ্চিত হবেই হবে। গত পাঁচ বছরে প্রমাণ হয়েছে সরকারের কথার এক পয়সারও দাম নেই।’ সমাবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আজকের এ সমাবেশে যাতে লোকজন আসতে না পারে সেজন্য সরকার বাস, লঞ্চ বন্ধ করাসহ সব জায়গায় ব্যারিকেড তৈরি করেছে। পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে সমাবেশে আগত লোকদের হয়রানি করেছে। এরপরও হেঁটে লোকজন আজকের এ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে প্রমাণ করেছে সরকারের প্রতি দেশের মানুষের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।’বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির ব্যাপারে ফয়সালা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই দাবি আদায় করা হবে। আজকের সমাবেশ সাত দফা দাবির পক্ষের সমাবেশ। এই সাত দফা এখন দেশের জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। দেশের জনগণ সাত দফা দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। তাই আমরা দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব। মোশাররফ বলেন, বুধবার (আজ) ফয়সালা করুন, সমাধান দিন। আর যদি সাত দফা দাবি না মানেন, তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা প্রথমবার ১ নভেম্বর সংলাপে গিয়েছি। কিন্তু আমাদের দাবিগুলোর ব্যাপারে সরকার আশানুরূপ সাড়া দেয়নি। সংলাপ শেষে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা কোনো সমাধান পাইনি। আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, এটা কোনো সংলাপ হয়নি। আমরা সন্তুষ্ট নই এ সংলাপে।সভাপতির বক্তব্যে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল বলেন রাজশাহীর জনসভার পর তারা ময়মনসিংহ, খুলনা ও কুমিল্লায় যাবেন। এছাড়া তারা নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবিতে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবেন। জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমার বক্তব্যের সময় নাই। আমি শুধু আপনাদের সামনে এ কথা বলতে এসেছি, পিজি হাসপাতালের ছোট একটি কক্ষে তিনি (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) বন্দি। আমি বিশ্বাস করি জনগণের এই আওয়াজ তার কানে পৌঁছে যাচ্ছে। সেখান থেকে তিনি বলছেন, তোমরা এগিয়ে যাও, জনগণের দাবি আদায় করো। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে বলেছেন, আমি কারাগারে যেতে ভয় পাই না। গণতন্ত্রের জন্য, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য কারাগারে যেতে প্রস্তুত আছি। আপনারা সবাই একটি জাতীয় ঐক্য গঠন করুন। আজ আমি খুশি একটি ঐক্য গড়ে উঠেছে। সবাই এক মঞ্চে তার (খালেদা জিয়া) মুক্তির দাবি করছেন। মহাসচিব আরও বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মিথ্যা মামলা করেছে সরকার। সাইবার দলের ২৫ জন নেতাকর্মীকে তুলে নেয়া হয়েছে। কোনো সংবাদ নেই। অনেকে কারাগারে আছেন। অন্যায়ভাবে ব্যারিস্টার মইনুলকে কারাগারে রাখা হয়েছে। আমরা আগামীকাল (আজ) আবারও সংলাপে যাব। সেখানে সব দাবি তুলে ধরা হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।বিএনপির মহাসচিব বলেন, একটা প্রহসনের সংলাপ করেছে। বলেছে, আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করবে না। কিন্তু একটু আগেও আমাদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব চলবে না। আমরা আগামীকাল (আজ) আবারো সংলাপে যাব। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চাই। কিন্তু সংলাপের নামে নাটক বন্ধ করুন। জনগণের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে আপনারা দাবি মেনে নিন।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারলে মুক্তি চান না। ১/১১-র সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। আমাদের নেত্রী যাননি। আমাদের নেত্রীর এভাবে মুক্তি নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। যত দিন তাকে নিঃশর্ত মুক্তি না দেয়া হবে ততদিন আন্দোলন চলবে। জনগণকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তারা চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে। এর আগে গত রোববার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, খালেদা জিয়া যদি প্যারোলে মুক্তি চান তাহলে আলোচনার পথ খোলা আছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হতেই পারে। তবে তার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি অনেক রাজনীতি করেছে। তিনি বলেন, সংলাপে আমরা আর বেশি সময় দিতে চাচ্ছি না। কারণ এখন তো আমাদের ইলেকশন রিলেটেড কিছু কাজ করতে হবে। ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন করলে এবার আর বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন মওদুদ। সংলাপ যদি হয় তামাশা তাহলে দেশের মানুষ রুখে দেবে বলেও মন্তব্য এই নেতার।সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। সহিংসতা বাদ দিয়ে সংলাপের পথ বেচে নিয়েছি। কিন্তু আমরা এখনো কিছু পাইনি। তাই মনে করছি আন্দোলনের বিকল্প নেই। আপনারা প্রস্তুত হোন, মাঠে নামতে হবে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘১৯৭১ এর ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের আহ্বানে আমরা স্বাধীনতা এনেছিলাম। আজ সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকেই বলে যাচ্ছি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে মুক্ত করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবোই।’ কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অভিযোগ বিএনপি রাজাকারের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে কিন্তু অভিযোগটি সত্য নয়। আওয়ামী লীগ প্রথম রাজাকারের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রথম সড়িষাবাড়ির রাজাকার নূরুল আলমের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে, আওয়ামী লীগ রাজাকার মহিউদ্দিনের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে, আওয়ামী লীগ আশিকুর রহমানের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপিতে যোগদান করি নাই, আমি ড. কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করেছি। নির্বাচনে যদি জয় চান আপনাদের হাতে, আর যদি আপনারা হারতে চান তাও আপনাদের হাতেই। শেখ হাসিনা আপানাদেরকে বিজয়ীও করতে পারবে না আবার পরাজিতও করতে পারবে না। যদি জিততে চান তাহলে নির্বাচন পর্যন্ত সব ভুলে গিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শান্তির পতাকাতলে নির্বাচন পর্যন্ত হিমাদ্রির মতো সোজা হয়ে দাঁড়ান।’ তিনি আরও বলেন, আজ এই জনসভাকে ভয় পেয়ে সরকার রাস্তায় গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে। গাবতলী বন্ধ, টঙ্গী বন্ধ। সব রাস্তা বন্ধের পরও আমার বোনরে একটু বলা উচিত ‘একটু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আইসা দেইখা যাইয়েন। গত ৪ তারিখ উনি (প্রধানমন্ত্রী) এখানে এসেছিলেন আল্লামা শফীর এক মিটিং-এ। আল্লামা শফী ভুলে যেতে পারেন কিন্তু আমি কাদের সিদ্দিকী ভুলি নাই। শাপলা চত্বরে ইমানদারের রক্ত ঝরিয়েছে। এই রক্তের বদলা না নিলে আমরা বেইমানে পরিণত হবো।’কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচন দিতে হবে হাসিনাকে। উপায় নাই। আমি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই না। কারণ আজকে বেগম খালেদার মুক্তি চাওয়ার কোনো দরকার নাই। আমাদের চিন্তা করতে হবে হাসিনার মুক্তি কবে হবে। খালেদা জিয়া জেলখানায় গিয়ে গণতন্ত্রের প্রতীক হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় বন্দি থেকে প্রতিটি মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছেন। আমি জানি বাংলাদেশকে বন্দি রাখা যায় না, তাই বেগম খালেদা জিয়াকেও বন্দি রাখা যাবে না।’বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনাদের নেতারা কিন্তু খুব চিন্তিত। আপনাদের কর্মীদের জেলে নেয়ার জন্য। আমি খুব খুশি আপনাদের পেছনে পুলিশ দৌড়ানোর কারণে। কারণ আপনাদের পেছনে পুলিশ দৌড়াতে দৌড়াতে পুলিশ হয়রান হয়ে যাবে তখন কিন্তু ভোট চুরি করতে পারবে না।’ বঙ্গবীর বলেন, ‘একটা জালেমের কথার মূল্য আছে কিন্তু সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কথার কোনো মূল্য নাই।’নিজেরা জীবন দিয়ে হলেও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে সরকার মেরে ফেলতে চায়। আমরা তাকে জেলে মরতে দিব না। তাকে মুক্ত করে আনবো। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে কোনো নির্বাচনও হবে না।’ মান্না বলেন, ‘গত ৫ বছরে যত নির্বাচন হয়েছে সব নির্বাচনে ভোট চুরি করেছে এ সরকার। কোনো নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দিতে পারেনি। ৫ বছর যাবত একটা বিনা ভোটের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তারা দেশে একটা লুটতরাজের রাজত্ব কায়েম করেছে।’ তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারি মার্কা আর কোনো ফোরটুয়েন্টি চলবে না। আমরা গণতন্ত্র চাই বলে এখানে সব দল এক হয়েছি। তাই আর কোনো ফোরটুয়েন্টি চলবে না জনগণের সাথে।’মান্না বলেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। এক সাথে ২ সংসদ চলতে পারে না। সংসদ ভেঙে দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এসব চলবে না। নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। তাদের গ্রেপ্তার করা চলবে না। সংলাপে যখন গিয়েছিলাম তখনো বলেছি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা যাবে না। তখন শেখ হাসিনা বললেন যাদের নামে মামলা আছে তার তালিকা দেন। তখন ফখরুল বললেন কার হাতে তালিকা দিব? আপনার হাতে তালিকা আসতে কতদিন লাগবে? তিনি আশ্বাস দিলেন কিন্তু এখনো গ্রেপ্তার চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর কথায় কথায় চলবে না। লিখিত দিতে হবে। সংলাপের পর আর একটা নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা চলবে না। এসব বাদ দিতে হবে।’ এসময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিলে তিনি বলেন, ‘এ স্লোগানের ছবি ভিডিও প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিন। যাতে দেখতে পারে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে কত মানুষ জীবন দিতে রাজি।’ পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা ওপরের আসা নির্দেশ মানেন তা আমরা জানি। এখন থেকে আর মানতে হবে না। জনগণ গণতন্ত্রের পক্ষে, তাদের বিরুদ্ধে যাবেন না। ‘মান্না বলেন, ‘আমরা কাল (আজ) আবার আলোচনা করতে যাবো। যদি আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায় না হয়, তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথ প্রকম্পিত করে দাবি আদায় করা হবে।’গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘উন্নয়নের ফাঁদে দুর্নীতির কারণে সরকারের উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে আজকে আমাদের কি করণীয় সেই চিন্তা করতে হবে। গত ১০ মাসে নাশকতার নাম করে বিনা বিচারে সাড়ে পাঁচশ জনকে সরকার হত্যা করেছে। এছাড়া কত হাজার লোককে হামলা, মামলা চালিয়েছে তার সবই আমাদের জানা।’ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘উন্নয়নের জোয়ারে সরকারের চোখে ছানি পড়েছে। উন্নয়নের জোয়ারে সরকার আজ কিছুই কানে শুনতে পায় না। আজকের এই জনসভায় যারা এসেছেন তারা সরকারের কানে আজকের আওয়াজ পৌঁছে দিবেন।’ তিনি বলেন, ‘দেশের এই অবস্থায় আমরা চুপ করে ছিলাম। কিন্তু আমাদের কিশোর ও তরুণরা বললো রাষ্ট্রের চিকিৎসা প্রয়োজন, রাষ্ট্র মেরামতের প্রয়োজন। আজকে রাষ্ট্রের এই কথার ছবি তোলাতে শহিদুল আলম জেলে।’ এই বুদ্ধিজীবী আরও বলেন, ‘একদিনে পাওয়া গেছে ৪৩ কোটি টাকার বান্ডেল। আর খালেদা জিয়ার কথিত ২ কোটি টাকার জন্য তাকে জেলে দিয়েছেন। জামিন তার মৌলিক অধিকার। যেখানে সরকারের এত লোভ হয় সেখানে তারা ন্যায় বিচার করতে পারে না। সেই জন্য আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।’ জনসভাস্থলে আগত কর্মীদের উদ্দেশ করে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আজকের দিনের মতো ভোটের দিনও আপনারা সবাই এক হয়ে সকল বাধা অতিক্রম করে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিবেন। কেউ আপনাদেরকে ঠেকাতে পারবে না। তাতেই হবে খালেদা জিয়ার মুক্তি। সুষ্ঠু নির্বাচনের পর সুবিচার সুনিশ্চিত।’বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর এ্যানীর সঞ্চালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব। এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেনÑ মির্জা আব্বাস, রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন, সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, ড. সুকোমল বড়ুয়া, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স ও শামা ওবায়েদ প্রমুখ।