ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় মৃণাল কান্তি দাস (৪৫) নামে এক কলেজ শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার উপজেলার আলমনগর এলাকায় নিজের ভাড়া বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মরদেহটি।

কলেজ শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ
কলেজ শিক্ষক মৃণাল কান্তি দাস (ফাইল ফটো)

মরদেহটির ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। স্থানীয় ফিরোজ মিয়া সরকারি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মৃণাল কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌর এলাকার মথুরাপুর এলাকার প্রয়াত শান্তিরঞ্জন দাসের ছেলে।

প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘সিজোফেনিয়া’ নামক মানসিক রোগে ভুগছিলেন এবং দাম্পত্য জীবনেও নানা সমস্যা ছিল বলে জানিয়েছেন পরিবার ও সহকর্মীরা। এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষে ২০০৩ সালে আশুগঞ্জ ফিরোজ মিয়া সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন মৃণাল। সে সুবাদে তিনি স্ত্রী শম্পা রানী বণিককে নিয়ে উপজেলার আলমনগর এলাকায় ফরিদ খন্দকারের বাসার তৃতীয় তলায় থাকতেন।

শুক্রবার রাতের খাবার শেষে স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে তার কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকানো পান। এরপর তিনি শুক্রবার রাত ও শনিবার ভোরে ডাকাডাকি করেও স্বামীর কোনো সাড়া পাননি এবং তার (মৃণাল) মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পান।

শনিবার সকালে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার মূল দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রথমে বাইরে থেকে আটকানো দরজা খুলে স্ত্রীকে উদ্ধার করে। পরে ভেতর থেকে আটকানো অপর দুটি কক্ষের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মৃণালের মরদেহ পাওয়া যায়।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ বলেন, রুমের দরজা ভেঙে মৃনালকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here