চলতি মাসে জামা-জুতার টাকা পাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের ছয় মাসের উপবৃত্তির টাকা ও জামা-জুতা কেনার জন্য অর্থ ছাড় দেয়া হয়েছে। এ বাবদ ৬৪৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হবে।

চলতি মাসের (জুন) মাঝামাঝি সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে এ অর্থ পৌঁছে দেয়া হবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।চলতি মাসে জামা-জুতার টাকা পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন দৈনিক শিক্ষাবার্তা কে বলেন, শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে আগের উপবৃত্তি প্রকল্প থেকে গত বছরের বকেয়া তিন মাসের (অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর) টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। শিওর ক্যাশের মাধ্যমে প্রথম তিন মাসের উপবৃত্তির বকেয়া ২৯১ কোটি টাকা সাড়ে ৯১ লাখ প্রাথমিকের শিক্ষার্থীকে বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের আগে শিশুদের চলতি বছরের ছয় মাসের উপবৃত্তির অর্থ ও পোশাক কেনার টাকাও একবারে দেয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তালিকা চূড়ান্ত করা সম্ভব না হওয়া তা কিছুটা পিছিয়ে গেছে। কারণ এখন নতুন প্রকল্প। টাকার ব্যবস্থা ছাড়াও আনুষঙ্গিক অনেক কাজ বাকি ছিল, যাদের মাধ্যমে টাকাটা দেব সেই সার্ভিস প্রোভাইডারেরর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করা হয়েছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে শিশুদের পরিবারকে চলতি বছরের ছয় মাসের উপবৃত্তি ও শিক্ষা সামগ্রী বাবদ ১৯০০ টাকা দেয়া হবে। আমরা উপবৃত্তি বাবদ ১ কোটি ৩৬ লাখ ও শিক্ষা সামগ্রী বাবদ ৬৪৩ কোটি টাকা পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করে ১৫ জুনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দেয়া মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেয়া হবে।

এদিকে অভিভাবকরা ভাবছেন, চলতি মাসে জামা-জুতার টাকা সহ উপবৃত্তির টাকগুলো একসাথে পেলে তাদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা সামগ্রী কেনার জন্য বেশ উপকার হবে।

১৯৯৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে ২০০৮ সালে ‘প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’ গ্রহণ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের মেয়াদ ২০১৫ সালের ৩০ জুন শেষ হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় পর্যায়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ পর্যায় প্রথমে এক কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়া হয়। পরবর্তীতে এর সঙ্গে আরও ১০ লাখ শিক্ষার্থী যুক্ত করা হয়। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে আরও দুই বছর সময় বাড়ানো হয়েছিল। এবার সংশোধনীতে আরও বাড়ানো হলো এর মেয়াদ।