পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের বাধা দূর করতে সংসদে উত্থাপিত তিনটি বিল রবিবার পাস হতে যাচ্ছে।

পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসির ফল প্রকাশে ৩ বিল পাস রবিবার
ফাইল ফটো

করোনা মহামারির মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশে আইন পাস হয়েছে জাতীয় সংসদ। এসএসসি ও জেএসসির পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এইচএসএসসি পরীক্ষার ফল দিতে পাস করা হয়েছে আইনটি।

শনিবার সংসদ সচিবালয়, রবিবারের সংসদের বৈঠকের যে কার্যসূচি প্রকাশ করেছে সেখানে এই তিনটি বিল পাসের সূচি রাখা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গত মঙ্গলবার ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’, ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’, ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’, সংসদে উত্থাপন করেন।

তার আগে গত ১৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে বিল তিনটি উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। পরে বিল তিনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। ওই দিনই সংসদীয় কমিটির বৈঠকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।

সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এই বছরের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব হয়, তাহলে পরের কয়েকমাসের মধ্যে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ঐ সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের প্রস্তুতি নিয়ে এ বছরের পরীক্ষা নিতে পারবো বলে আশা করি।”

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন জেএসসি এবং এসএসসি’র ফলাফলের ভিত্তিতে তাদের এইচএসসি’র ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।

ডিসেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি জানিয়েছিলেন, এইচএসসি বা উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধ্যাদেশ জারি করতে যাচ্ছে সরকার।

কিন্তু গত সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান যে, অধ্যাদেশ জারি নয় বরং আইনের সংশোধনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

সেসময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, “পার্লামেন্টে এটা প্রথম দিন উত্থাপন করে , দুই তিন দিনের মধ্যে আইন করে তারপর ২৫-২৬ তারিখ, ম্যাক্সিমাম ২৮ তারিখের মধ্যে রেজাল্ট দিয়ে দেয়া যায়।”

নতুন সংশোধনীর ফলে দুর্যোগকালীন সময়ে পরীক্ষা নিতে সক্ষম না হলে, মূল্যায়ন বা ফলাফল দেয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে। ১৭টি শিক্ষা বোর্ডের ২০২০ সালে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল।

পরে ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন বিলটি একদিনের মধ্যে এবং বাকি দু’টি দু’দিনের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার তিনটি বিলই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে পাসের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, পরীক্ষা নেয়ার পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল দেয়ার বিধান রয়েছে। সংশোধিত বিলে পরীক্ষা ছাড়াই বিশেষ পরিস্থিতিতে ফলাফল প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়েছে।

গত বছরের পহেলা এপ্রিল থেকে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সরকার পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়নের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমান শ্রেণির ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া ফল প্রকাশে আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ায় সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।
বিল তিনটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়, প্রস্তাবিত আইনে বিশেষ পরিস্থিতে অতিমারি, মহামারি, দৈব দুর্বিপাকের কারণে বা সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত কোনও অনিবার্য পরিস্থিতিতে কোনও পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ এবং সনদ করা সম্ভব না হলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা কোনো বিশেষ বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ করে ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন এবং সনদ প্রদানের জন্য নির্দেশাবলী জারি করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

বিলটি পাশ না করে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিএনপির হারুন উর রশীদ বলেন, অটো পাশে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী। একই মত প্রকাশ করেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের রুমিন ফারহানাও।

হারুন উর রশীদ আরও বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা থেকে ছিটকে পড়েছে। আমরা যদি পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করে অন্ততপক্ষে পরীক্ষার মাধ্যমে একটা ব্যবস্থা করতে পারতাম, তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েদের অন্তত পক্ষে বাড়িতে টেবিলে বসানোর ব্যবস্থা করতে পারতাম। আজ আমরা আইন পাস করে অটো পাশ দিয়ে দিলাম। এ সিদ্ধান্তের মাশুল দিবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।

পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here